Baruipur Lynching Update। বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা

Spread the love

Baruipur Lynching Update: বারুইপুরের সূর্যপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। সেই যুবকের পরিবারের নিরাপাত্তা নিশ্চিত করতে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। নিহত যুবকের পরিবারের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টার পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে পরিবারের উপর যাতে কোনও ধরনের হামলা বা ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, একজন সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে ছয়জন কনস্টেবল পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি শিফটে দু’জন করে কনস্টেবল নিহত যুবকের বাড়িতে মোতায়েন থাকবেন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে পুলিশ নিয়মিত টহলও দেবে। রবিবার নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর উত্তেজিত জনতা সন্দেহের বশে ওই যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ওই যুবকের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি নির্দোষ ছিলেন।

মঙ্গলবার নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি দাবি করেন, নিহত যুবক নির্দোষ ছিলেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণপিটুনিতে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক নির্দোষ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মৃতের পরিবারের দাবি, তাঁর ছেলে পেশায় অটোচালক ছিলেন এবং এলাকায় সকলের পরিচিত ছিলেন। নাবালিকার উপর নির্যাতনের ঘটনায় পরে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের কয়েকজনকে তিনি চিনতেন। সেই সূত্রেই কিছু মানুষ তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। মৃতের বাবা বলেন, ‘ওরা যখন ছেলের খোঁজ করতে আসে, আমি বলেছিলাম যদি আমার ছেলে কোনও অপরাধ করে থাকে এবং তার প্রমাণ থাকে, তাহলে আমি নিজেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেব। এরপর ছেলেকে ওদের সঙ্গে কথা বলতে যেতে বলি। কিন্তু সে আর জীবিত ফিরে আসেনি।’

মৃতের মা-ও দাবি করেন, তাঁর ছেলে কোনওদিন এমন অপরাধ করতে পারে না। তাঁর কথায়, ছেলের বিরুদ্ধে আগে কখনও কোনও অভিযোগ ছিল না। ভুল সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্ত যেমন দ্রুত এগোচ্ছে, তেমনই গণপিটুনির ঘটনাতেও পৃথকভাবে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *