Bengal Railways Project। বেনারস ব্রিজ থেকে ডানকুনি, রানাঘাট! নৈহাটি- রেলের কোন কোন প্রকল্প ‘স্পিড’ তুলবে?

Spread the love

বিজেপি জিততেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করল পূর্ব রেল। বৃহস্পতিবার রেলের তরফে জানানো হয়েছে, বিদায়ী রাজ্য সরকারের ক্রমাগত অসহযোগিতার জন্য রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি থমকে ছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার যাত্রী নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুর স্বাস্থ্যের অবনতি হলেও কাজ আটকে ছিল বলে রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে। রেলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের সমন্বয়ের ভিত্তিতে দ্রুতগতিতে শেষ করা হবে দীর্ঘদিনের বকেয়া প্রকল্পগুলো।

বিপজ্জনক ব্রিজের ভবিষ্যৎ ও জনসুরক্ষা

পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাওড়া স্টেশনের কাছে অবস্থিত বেনারস এবং চাঁদমারি রোড ওভারব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। রেল প্রশাসন বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও বিদায়ী সরকার ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি না দেওয়ায় মেরামতির কাজ শুরু করা যায়নি। জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েও বিগত প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও সদর্থক সাড়া পাননি। যেখানে ১০০ শতাংশ টাকা দিচ্ছে রেল, সেখানে কেন কাজ আটকে রাখা হল, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে। তবে নতুন প্রশাসনিক পরিবেশে টানা চার মাস কাজ করে এই বেনারস ব্রিজের পুরো কর্মযজ্ঞ শেষ করার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে।

জমি জট ও প্রশাসনিক টালবাহানা

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, নৈহাটি-রানাঘাট এবং রানাঘাট-কৃষ্ণনগর সেকশনে তৃতীয় লাইনের কাজ গত জুলাই থেকে ঝুলে রয়েছে শুধুমাত্র ল্যান্ড ম্যাপ বা জমির নকশা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে। জেলা প্রশাসনের খামখেয়ালিপনায় রেলের স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ম্যাপ গ্রহণ না করায় থমকে ছিল কাজ। একই অবস্থা সাঁইথিয়া বাইপাস প্রকল্পেরও। পাঁচ বছর আগে একে ‘বিশেষ রেল প্রকল্প’ ঘোষণা করা হলেও, ২০২০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কোনো জমি রেলের হাতে তুলে দেয়নি বিদায়ী প্রশাসন। এমনকী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়নি বলে রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনের কাজে গতি

রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকল্প যেমন— চন্দনপুর-শক্তিগড় চতুর্থ লাইন, মুরারই-বারহারওয়া তৃতীয় লাইন এবং ডানকুনি-বালটিকুরি তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনের জন্য ‘কম্পিটেন্ট অথরিটি’ নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলে। কিন্তু বিদায়ী সরকার সেই সাধারণ প্রশাসনিক পদক্ষেপটুকুও নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে জমি অধিগ্রহণের বাধা কাটানো হবে বলে আশা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, ‘যাত্রী সুরক্ষা আমাদের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার। বিদায়ী সরকারের তৈরি করা বাধাগুলো এখন অপসারিত হচ্ছে। আমরা দিনরাত কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিশ্বমানের এবং নিরাপদ রেল পরিষেবা পায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *