চন্দ্রনাথ রথ কাণ্ডে বড় সূত্র পেল পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত বাইকটি উদ্ধার করল পুলিশ। এয়ারপোর্ট আড়াই নং গেটের কাছে আবর্জনা ফেলার জায়গায় মিলল খুনে ব্যবহৃত বাইক। বাইকে নম্বর প্লেটটি ভুয়ো বলে জানা গিয়েছে। এদিকে এই বাইকেরও ইঞ্জিন নম্বর থেকে শুরু করে চ্যাসিস নম্বর মুখে ফেলা হয়েছে। সেই এলাকার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে আড়াই নম্বর গেট থেকে আততায়ীরা অন্য গাড়িতে পালায় বলে অনুমান পুলিশের।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁর বুকে ২টি গুলি লেগেছিল। সেগুলি হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয়। আর অপর গুলিটি তাঁর পেটের কাছে লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে বুদ্ধদেবকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় একটি চার চাকার গাড়ি এবং ২টি বাইক ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যে ছোট গাড়িটি এই খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিকে মধ্যমগ্রামের দোলতলা সাহারা ব্রিজে দেখা গিয়েছিল বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিটে। এই ব্রিজটি ঘটনাস্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরেই। জানা গিয়েছে, ছোট নিসান গাড়িটি দিয়ে চন্দ্রাথের গাড়িটি থামায়। সেই সময় পাশ দিয়ে একটি বাইকে করে আততায়ী চন্দ্রনাথের গাড়ির পাশে পৌঁছে যান এবং পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি করে। এরপর ছোট গাড়ির চালক একটি বাইকে চেপে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে ছোট যে গাড়িটি খুনে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটিকে খুনের রাতেই বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। সেই গাড়িটির নম্বরটি ভুয়ো বলে জানা গিয়েছে। তবে এই গাড়ির আগের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এই গাড়ির চ্যাসিস নম্বর সব জায়গা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকী গাড়ির রেডিয়েটরের পাশে যে স্টিকার থাকে, তাও ঘষে দেওয়া হয়েছে। এই আবহে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে পেশাদার খুনিরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এই আবহে আজ সকালবেলাই মধ্যমগ্রামের ঘটনাস্থে পৌঁছে যান সিআইডির তদন্তকারীকারীরা।