নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের উত্তপ্ত ভাঙড়। ১১ এপ্রিল রাতে ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল। অবশ্য ঘটনার সময় সেই গাড়িতে ছিলেন না নওশাদ। এই আবহে হামলায় কেউ জখম হননি। তবে এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। নওশাদের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে আইএসএফ। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভাঙড়ের ব্যাওতা-১ অঞ্চলে দলীয় প্রচারে গিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। সেখানেই নওশাদের গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। তখন ফাঁকা গাড়িটি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। গাড়ির পিছনের কাচে ইট লাগে এবং তা ভেঙে যায়। ভাঙা সেই কাচের টুকরো গাড়ির পাশে রাস্তায় পড়ে থাকে। নওশাদের নিরাপত্তারক্ষীরা ঘটনাটি দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। কে বা কারা এই হামলা চালায়, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। যদিও এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল দোষীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
তবে আইএসএফ অভিযোগ করেছে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই নওশাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুড়েছে। এই বিষয়ে ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ক নিজে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ভাঙড়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ভোটের আগে আমাদের দলের কর্মীদের মনোবল ভাঙতেই এভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই ধরনের হামলায় আইএসএফ কর্মীদের বা আমাকে আটকানো যাবে না।’
উল্লেখ্য, ভাঙড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা একটি অতি স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এহেন ভাঙড়ে এবার তৃণমূলের তরফ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে শওকত মোল্লাকে। আবার ভাঙড়ের একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম দলবদল করে আইএসএফে যোগ দিয়েছেন। এই আবহে ভাঙড়ের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এরই সঙ্গে ভাঙড় আছে ভাঙড়েই। ভোটের আগে বিদায়ী বিধায়কের গাড়িতে এহেন হামলায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল বনাম আইএসএফ চাপানউতোর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
