বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত জেলা রংপুরে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল। রংপুরে এক ২০ বছর বয়সি যুবককে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। নিহত যুবকের নাম রাকিব হাসান। সেই ঘটনার পর হিন্দুদের ওপর চড়াও হয় স্থানীয় মৌলবাদীরা। যদিও স্থানীয়রা দাবি করে, রাকিবের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আছে মাদক ব্যবসা। এই আবহে মহম্মদ মোমিন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডকে অজুহাত করে হামলা শুরু হয় স্থানীয় হিন্দুদের বাড়ি ও দোকানে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল রাতের দিকে ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক লাঠি এবং দেশি অস্ত্র নিয়ে রংপুরের দাসপাড়া মোড়ে দোকানপাটে হামলা চালায়। এই দাসপাড়াতেই কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল রাকিবকে। এতে অন্তত ২০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১০টি বসত বাড়ি। এই সব বাড়ি ও দোকানপাট মূলত হিন্দুদের। স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের অভিযোগ, রাকিব হত্যাকাণ্ড দাসপাড়া বাজার এলাকায় ঘটলেও হত্যাকাণ্ডের পরে স্থানীয়রা কেন সাক্ষী হিসেবে এগিয়ে আসেনি, এই অভিযোগ তুলে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ১১ এপ্রিল দাসপাড়া মোড়ে দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। এদিকে স্থানীয় হিন্দুরা নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, হামলার অবেক আগে থেকেই বেশ কিছু দুষ্কৃতী দাসপাড়া মোড়ের আশেপাশে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। তবে পুলিশ তাতে কিছু করেনি। এদিকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রংপুরের পুলিশ কমিশনার মহম্মদ মজিদ আলি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘হত্যা মামলার পাশাপাশি এই ভাঙচুরের ঘটনাতেও দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনাতেও পুলিশ মামলা করবে।’ এদিকে পুলিশের বক্তব্য, হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দিকপ্রবাহ যাতে অন্যদিকে বইতে থাকে, তার জন্যে সংখ্যালঘুদের ওপর এই হামলা ঘটে থাকতে পারে।এদিকে নিহত রাকিবের মা নূর জাহান বলেছেন, তাঁদের সঙ্গে হিন্দুদের কোনও দ্বন্দ্ব নেই। তাঁরা হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় কোনও ভাবেই জড়িত নন। উলটে তিনি অভিযোগ করেন, রাকিব হত্যায় অভিযুক্ত মাদ ব্যবসায়ী মহম্মদ মোমিনের জামাই নাকি হিন্দুদের ওপর হামলার এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
