কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু দাবি করেছেন, বাংলাদেশি নথি না থাকলেও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে। তাঁর বক্তব্য, বহু উদ্বাস্তু বা মতুয়া পরিবারের কাছে বাংলাদেশে থাকার পুরনো নথি নেই, তাই বিকল্প ব্যবস্থার কথাও রাখা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শান্তনু ঠাকুর বলেন, আবেদনকারীদের অনেকের কাছেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট, জমির কাগজ বা সরকারি নথি নেই। সেই ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা কোনও সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠনের দেওয়া চরিত্র শংসাপত্র বা পরিচয়পত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, সিএএ কার্যকর হলে বহু মতুয়া ও হিন্দু উদ্বাস্তু ‘আইনগত ও সাংবিধানিক নাগরিকত্বের সুরক্ষা’ পাবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র আধার বা ভোটার কার্ড থাকলেই স্থায়ী সাংবিধানিক নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয় না, আর সেই কারণেই সিএএ প্রয়োজন।
এদিকে এই মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, যদি কোনও বিদেশি নথি ছাড়াই নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়, তাহলে যাচাই প্রক্রিয়া কতটা নির্ভুল হবে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বহু মানুষ তড়িঘড়ি দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন, তাই তাঁদের কাছে সব নথি থাকা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সংসদে পাশ হয়েছিল সিএএ এবং ২০২৪ সালে এর নিয়ম কার্যকর করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, যাঁরা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-র আগে ভারতে এসেছেন, তাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সাধারণভাবে নাগরিকত্ব পেতে ১১ বছর ভারতে বসবাসের শর্ত ছিল, তবে সিএএ-র ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছিল। ২০২৬ সালে কেন্দ্র সরকার সিএএর নিয়মে আরও কিছু পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের বিদেশি পাসপোর্ট থাকলে তার তথ্য জানাতে হবে এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পরে সেই পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টে এখনও সিএএর বৈধতা নিয়ে একাধিক মামলা চলছে। ২০০-র বেশি আবেদন জমা পড়েছে এবং আদালতে এই আইন নিয়ে চূড়ান্ত শুনানিও হয়েছে।
