বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের একাধিক পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরররা গণইস্তফা দিতে শুরু করেছেন। এই পদত্যাগের হিড়িককে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে উত্তর ২৪ পরগনা— বিভিন্ন জেলার পুর এলাকায় একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে চাপ বাড়ছে বিরোধী দলের উপর। সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই সাতটি পুরসভা থেকে ১১৫ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ডায়মন্ড হারবার পুরসভা। মোট ১৬টি আসনের এই পুরসভায় ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পুরসভা দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ডায়মন্ড হারবারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তমাল হালদার অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল পুলিশের। এবং ওপর তলার নির্দেশ মেনেই পুলিশ সেই কাজ করত।
এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুরসভাতেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় পুরপ্রধান-সহ ১৫ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। গারুলিয়া পুরসভায় ২১ জনের মধ্যে ১৮ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া হালিশহর পুরসভায় ১৬ জন, কাঁচরাপাড়ায় ১৪ জন এবং ভাটপাড়ায় ৩২ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাঁথি পুরসভাতেও ১২ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন।
এই ধারাবাহিক ইস্তফার জেরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে রাজ্যে কি তবে নতুন করে পুরভোটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? বিরোধীদের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ফলাফলের প্রভাবই এখন পুরস্তরেও পড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে, মমতার দলের অন্দরে এই ইস্তফা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। এই আবহে গতকালই কলকাতা লাগোয়া চারটি পুরসভার কাউন্সিলরদের ডেকে বৈঠক করেন মমতা। কাউন্সিলরদের তিনি পদত্যাগ না করার বার্তা দেন।
