ক্যানিং থানার সামনে ধৃত তৃণমূল নেতাকে ঘিরে মঙ্গলবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল যুব নেতা অরিত্র বসুকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। বহু মহিলা-পুরুষ হাতে ঝাঁটা ও জুতো নিয়ে থানার সামনে জড়ো হন। অভিযুক্ত নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যে প্রিজন ভ্যানে ভরে অরিত্রকে মেডিক্যাল চেকআপের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তাতে চটি ও ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করেন স্থানীয় মহিলারা।
জানা গিয়েছে, ভোট গণনার দিন এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই অরিত্র বোসকে খুঁজছিল পুলিশ। গত সোমবার আনন্দপুর থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার আগে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওই তৃণমূল নেতাকে। সেই সময় থেকেই থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, থানার ভিতর থেকে অরিত্র বসুকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এবং ঝাঁটা-জুতো প্রদর্শন করেন। কেউ কেউ প্রিজন ভ্যানের গায়েও আঘাত করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় থানা ও হাসপাতালের বাইরে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময় এলাকায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস চালানো হয়েছিল। সেই সময়ের একাধিক অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং বহু পরিবার ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটিয়েছে। মহিলাদের সম্মানহানী, ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে এই অরিত্রের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, মানুষের ক্ষোভই এই বিক্ষোভের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, তাদের দল প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
