Twisha Sharma death case: স্বামী পেশায় আইনজীবী। শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। সেই বাড়িতেই গত সপ্তাহেই উদ্ধার হয় বধূর ঝুলন্ত দেহ। কী ভাবে মৃত্যু হল ৩৩ বছর বয়সি ত্বিশা শর্মার? সময় যত এগোচ্ছে, এই প্রশ্ন ততই জোরালো হয়ে উঠতে শুরু করেছে। ময়নাতদন্তে একে আত্মহত্যা হিসাবেই উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের দাবি, এই মৃত্যু অস্বাভাবিক। তাঁর বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ময়নাতদন্তের সঙ্গে অন্য প্রমাণের মিল নেই। নেপথ্যে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। আসলে, ত্বিশার শ্বশুর প্রাক্তন বিচারপতি। নবনিধির দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন অপরাধ ধামাচাপা দিতে চাইছে। তাই নতুন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই ন্যায়বিচারের দাবিতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে টানা কয়েকদিন ধরে ধরনায় বসেছেন ত্বিশার পরিজনরা।
এনডিটিভি-কে মৃত তরুণীর বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ‘ওদের পরিচয় হয়েছিল একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। বিয়ের প্রায় এক বছর আগে আমরা এই সম্পর্কের কথা জানতে পারি। পরে আমরা সবাই এই সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলাম।’ ত্বিশার স্বামী সমর্থ এবং তার মা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরিবালা সিং-এর বিরুদ্ধে হত্যা ও পণের জন্য হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে নবনিধি শর্মা বলেন, ‘দেখুন, আজকাল যৌতুক এমন একটা শব্দ যেটা ব্যবহার না করেই মানুষ নানাভাবে দাবি করে থাকে। তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যাতে আপনার পকেট থেকে টাকা বের করে নেওয়া হয়। কেউ সরাসরি বলে না যে আমাকে যৌতুক দাও।’ একইসঙ্গে তিনি ত্বিশার স্বামীকে ‘ভেড়ার ছদ্মবেশে নেকড়ে’ বলে বর্ণনা করেছেন। নবনিধি শর্মা বলেন, ‘আপনি যদি তাদের অতীতের দিকে তাকান, দেখবেন তাদের বাড়ির প্রথম পুত্রবধূও হেনস্থার কারণে বিবাহবিচ্ছেদ করতে বাধ্য হয়। অনেক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, যা পরে বাস্তবায়িত হয়নি।’
কী বলছেন ত্বিশা শর্মার শাশুড়ি?
কোনও হয়রানি করা হয়নি। মাদকাসক্ত ছিলেন ত্বিশা শর্মা। এমনই দাবি করলেন তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিং। এদিকে ত্বিশার বাবা-মা অভিযোগ তুলেছেন, তাঁদের কন্যাকে পণের দাবিতে অত্যাচার করা হত। তবে অত্যাচার বা হয়রানির অভিযোগ মানতে নারাজ ত্বিশার শাশুড়ি। তিনি বলেন, তার পুত্রবধূ একজন মানসিক রোগী এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। ওষুধ না পেলে তার মধ্যে নানান লক্ষণ দেখা দিত। গিরিবালা জানিয়েছেন, বিগত বেশ কয়েক দিন ধরেই তিনি লক্ষ করছেন ত্বিশার হাত-পা কাঁপছে। মেজাজ সব সময়ে সপ্তমে চ়ড়ে থাকত। হঠাৎ হঠাৎ মেজাজ পাল্টে যেত। রাগারাগি করতেন। গিরিবালার মতে, বাড়িতে মাদক সেবন করতে পারতেন না বলেই ত্বিশা এমন আচরণ করতেন। গিরিবালা এ-ও জানিয়েছেন, বিষয়টি ত্বিশার বাবাকে জানিয়েছিলেন তিনি। তখন নাকি তিনি কন্যার মাদকাসক্তির বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গিরিবালা সিং জানান, তাঁর ছেলে সমর্থ সিং আদালতে থাকার সময় ত্বিশা ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তিনি মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি পিল খেয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘প্রথম সন্তান যে কোনও পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ত্বিশা কখনও সন্তান চাইতেন না। ৭ মে তিনি গর্ভপাতের ওষুধ খান।’

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ঘিরে বিভ্রান্তি
এরমধ্যেই ত্বিশা শর্মার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, যে বেল্ট ব্যবহার করে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে, তা পোস্টমর্টেমের সময়ে চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের। একইসঙ্গে তাঁর পোশাক-সহ একাধিক তথ্য প্রমাণ সঠিক ভাবে সংরক্ষণ না করারও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘অ্যান্টিমর্টেম হ্যাঙ্গিং বাই লিগেচার।’ অর্থাৎ, গলায় ফাঁস লাগানোর জন্য তিনি বেল্ট ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হাতে না পাওয়ার কারণেই চিকিৎসকরা মহিলার গলায় পাওয়া চিহ্নগুলোর সঙ্গে ফাঁস লাগানোর উপকরণ মেলাতে পারেননি। এতেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে এই রিপোর্ট কী ত্রুটিমুক্ত?
মিসরোদ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) রজনীশ কাশ্যপ বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আইএএনএস’-কে জানিয়েছেন যে, ঘটনাস্থল থেকে বেল্টটি উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এটি না আনার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন, পরে সেই বেল্টটি ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) টিমের কাছে দেওয়া হয়। এরপর ভোপাল এইমস-এ জমা দেওয়া হয়। ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর তদন্তে আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে পুলিশকে না ডেকে তার দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কীভাবে। এ বিষয়ে কাশ্যপ আইএএনএস-কে বলেন, ‘এটি আমাদের চলমান তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ওই বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং আমরা সেগুলোর ফুটেজ সংগ্রহ করছি। পাশাপাশি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি নিয়েও তদন্ত চলছে। ত্বিশা শর্মার পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, সমর্থ সিং-এর মা গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং এই মামলার সহ-অভিযুক্ত। তিনি এতে প্রভাব খাটিয়েছেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে তার পুত্রবধূ একজন মানসিক রোগী এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। ওষুধ না পেলে তার মধ্যে নানান লক্ষণ দেখা দিত। পুলিশ জানিয়েছে, এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।