হাসিনা জমানায় ‘বিরোধীদের অপহরণ’ করার ঘটনায় অভিযুক্ত তিন সেনা আধিকারিককে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মমলার শুনানির জন্য তাদের আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতে পেশ তিন সেনা আধিকারিকরা হলেন- প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর বা ডিজিএফআইআ-এর প্রাক্তন তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মহম্মদ সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তনভির মাজাহার সিদ্দিকি।
উল্লেখ্য, হাসিনা জমানায় বিরোধীদের অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে’ রাখার অভিযোগে দায়ের মামলায় অভিযুক্ত ১৩ জন। সেই মামলায় অভিযুক্ত ১০ জন পলাতক। পলাতক অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজন হলেন ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন পাঁচজন মহাপরিচালক – লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) হামিদুল হক। এছাড়াও বাকি পলাতক অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম হলেন – ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মকসুরুল হক। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমেদ সিদ্দিকও এই মামলায় অভিযুক্ত।
উল্লেখ্য, এর আগেই অপর এক মানবতা বিরোধী মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল। ক্যাঙ্গারু কোর্টে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর থেকেই তাঁকে ফেরত চেয়ে সরব হয়েছে বাংলাদেশ। পরে হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে নোট ভারবাল পাঠায় ঢাকা। যদিও যে প্রত্যর্পণ চুক্তির দোহাই বাংলাদেশ দিয়েছে, তাতেই বলা আছে, রাজনৈতিক কোনও ব্যক্তিত্বকে প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য নয় ভারত। আর এমনিতেও ইউনুসের সরকার আসার পরও একবার নোট ভারবাল দিয়ে ভারতের কাছে হাসিনাকে ফেরত পাঠিয়েছিল। সেই সময়ও ভারত জানিয়েছিল, এই প্রত্যর্পণের আবেদন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারে।
