Central Force in West Bengal: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী বা সিএপিএফ মোতায়েনের মেয়াদ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নয়া দিল্লি। বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটলেও রাজ্যে যে কোনও ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা রুখতে আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার জন্য দিল্লির কাছে দাবি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলায় আগামী ২০ জুন পর্যন্ত ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই কথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে রাজ্যের নতুন সরকারকে।
গত ১৬ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি লেখা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে। চিঠিতে আবেদন করা হয়েছিল যে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা রাখা হোক। রাজ্য আরও আবেদন করেছিল যে, এই বছরের অক্টোবার পর্যন্ত বাহিনী থাকুক রাজ্যে। ২০ মে, বুধবার সেই চিঠির জবাব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের আবেদনে সাড়া দেওয়া হয়েছে। রাজ্য যা চেয়েছিল তাতে সাড়া না দিলেও আগামী ২০ জুন রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনে সায় দিয়েছে কেন্দ্র।
কী বলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোট পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজ্য সরকার গত ১৬ মে তাদের চিঠি দিয়েছিল। তারা চেয়েছিল, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকুক। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আপাতত ২০ জুন পর্যন্তই রাজ্যে ওই পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যে ২০০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ১৫০ কোম্পানি বিএসএফ, ৫০ কোম্পানি সিআইএসএফ, ৫০ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ৫০ কোম্পানি এসএসবি মোতায়েন থাকবে। তবে এই বাহিনী নিয়ে রাজ্য সরকারকে বেশকিছু নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জানানো হয়েছে, এই ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন থাকাকালীন তাঁদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন, রসদ ও লজিস্টিকস, থাকার জন্য উপযুক্ত বাসস্থান এবং অন্যান্য সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আয়োজন সম্পূর্ণ নিজেদের খরচে ও দায়িত্বে সুনিশ্চিত করতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। বাহিনীর অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী রাজ্যকে এই সমস্ত পরিকাঠামো দ্রুত সচল রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভোটের আবহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছিল, ভোটগণনা মিটে যাওয়ার পরেও অন্তত ৬০ দিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি কেমন হতে পারে, সম্ভবত তা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর জুলাই পর্যন্ত থাকার কথা ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কিন্তু এবার অমিত শাহের মন্ত্রক জানিয়ে দিল, বাংলায় ২০ জুন পর্যন্ত ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন থাকাকালীন তাদের যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রাজ্য সরকারই করবে।