Parambrata-Dilip Ghosh। ঠিক কোন কারণে ‘রগড়ানি’ টুইট করেন পরমব্রত?

Spread the love

তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার চলাকালীন টলিপাড়ায় রাজনীতির চোখ রাঙানি বারবার এসেছিল খবরের শিরোনামে। বিশ্বাস ভাইদের রমরমায় কাজ হারিয়েছিলেন অনেকেই। এমনকী, পয়লা সারির অভিনেতা থাকা সত্ত্বেও অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ব্যান কালচারের শিকার হতে হয়েছিল। টলিপাড়ার তরুণ তুর্কি ঋদ্ধি সেনও হয়েছিলেন এই শিকার। এছাড়াও বহু পরিচালক-প্রযোজক-টেকনিশিয়ান-মেকআপ আর্টিস্ট অনেকেই রাজনীতির দাদাগিরিতে হারিয়েছিলেন কাজ। এদিকে বিজেপি দায়িত্বে আসার পরই, ‘আশ্বাস এসেছে’ টলিউডকে রাজনীতি মুক্ত করার। তবে এসবের মাঝেও অভিনেতা পরমব্রত ভট্টাচার্যর উপর ঝুলে আছে খাড়া। যদিও একটি মিডিয়া বিবৃতিতে তৃণমূলের বিপক্ষে মুখ খুলেছেন অভিনেতা, তবে তাতে খুব একটা শান্ত হয়নি গেরুয়া শিবির। আর এর পিছনে রয়েছে ২০২১ সালে পরমব্রতর করা ‘রগড়ানি’ টুইটটি।

তা কেন হঠাৎ বিজেপি-র হারকে ‘রগড়ানি দিবস’ হিসেবে পালন করার কথা বলেছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়? পিছনে ছিল কোন কারণ? একটু পিছনে তাকালে দেখা যাবে, এই ‘রগড়ানি’কথাটি কিন্তু ব্যবহার করেছিলেন বিজেপির বিধায়ক-মন্ত্রী দীলিপ ঘোষ। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, ‘শিল্পীদের বলছি আপনারা নাচুন, গান। ওটা আপনাদের শোভা পায়। রাজনীতি করতে আসবেন না। ওটা আমাদের ছেড়ে দিন। না হলে রগড়ে দেব’।

প্রসঙ্গত, দিলীপের এই মন্তব্য এসেছিল, রাজ্যের বহু বিশিষ্ট শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী যখন বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সোচ্চার হয়ে ‘নিজেদের মতে, নিজেদের গান’ শিরোনামে একটি প্রচার শুরু করেছিলেন, তখন। বিজেপি নেতার এমন আলটপকা মন্তব্যের সেই সময় প্রতিবাদ করেছিল তারকারা যৌথভাবে। এমনকী, বিজেপি করেন এমন বহু তারকাও তখন দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের প্রতিবাদ করে খুলেছিলেন মুখ।

আর এরপরই ২০২১ সালে বিজেপির হারের পর, পরমব্রতর সেই ‘কুখ্যাত’ টুইট। যাতে তিনি লেখেন, ‘আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।’ আর পরমব্রতর এহেন টুইটটি রিটুইট করে স্বস্তিকা লিখেছিলেন, ‘হোক হোক’! রাজনীতির পালাবদলে দিলীপ ঘোষের বলা ‘রগড়ে’ দেব ভুলতে বসেছে মানুষ। বরং পরমব্রতর ‘রগড়ানি দিবস’ মন্তব্যটিই এখন হাইপে। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার স্বস্তিকা ও পরমব্রতর নামে গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন এক আইনজীবী। অভিযোগ, ‘ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দেওয়ার’। এখন দেখার, এই মামলার জল কতদূর গড়ায়।

প্রসঙ্গত, বুধবার আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন সকলকে নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। যাতে সৃজিত মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রুদ্রনীল ঘোষ, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, নিসপাল সিং-সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পরমব্রত সোচ্চার হন তৃণমূল কংগ্রেসের দাদাগিরি নিয়ে। বলেন, ফেডারেশনের সঙ্গে বিবাদের জেরে তাঁকে অলিখিতভাবে বয়কট করা হয়েছিল। তারপর ছেলের জন্মের পর, সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এবং পরিবারের কথা ভেবে, বাধ্য হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন। যা নিয়ে ট্রোল হতে হয় পরমব্রতকে। কারণ ভোটের আগে ‘নো ভোট ফর বিজেপি’ ডাক দিয়ে প্রচার করেছিলেন তিনি। এমনকী, পরমব্রতর ছেলের অন্নপ্রাসনে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *