Chandranath Rath Murder case: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল সিবিআই। মঙ্গলবার বিনয় রাই নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, তাঁকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সোমবার এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রাজকুমার সিং ওরফে রাজ সিংকে মুজফফরনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দু’দিন পর, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের ব্যস্ত রাস্তায় তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। হামলায় গুরুতর জখম হন তাঁর গাড়ির চালকও। ঘটনার পরই রাজ্য পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করে। পরে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
প্রথমদিকে সিট উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়াও বক্সার থেকে আরও এক ব্যক্তিকে ধরা হয়, যাকে তদন্তকারীরা শার্প শুটার বলে সন্দেহ করছেন। ধৃতদের জেরা করেই আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সেই সূত্র ধরেই সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়ে রাজকুমার সিং এবং পরে বিনয় রাই।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাজকুমার সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার রসড়া থানার রতনপুর এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার শুটার হিসেবে কাজ করত। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও তল্লাশি চালায় সিবিআই। সেই অভিযানেই বারাণসী থেকে ধরা পড়ে বিনয় রাই। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিট এবং দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। উল্লেখযোগ্যভাবে, ধৃত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁর বুকে ২টি গুলি লেগেছিল। সেগুলি হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয়। আর অপর গুলিটি তাঁর পেটের কাছে লাগে।
চন্দ্রনাথ খুনে মোট ৭ থেকে ৮ জনের দল যুক্ত ছিল বলে জানতে পেরেছিল পুলিশ। এই খুনে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ২। পুলিশ বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দেখতে পায়, চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছনে একটি লাল রঙের গাড়ির সন্দেহজনক গতিবিধি ছিল। পুলিশ মনে করছে, সেই গাড়িতে করে খুনে যুক্ত কয়েকজন পালিয়ে যায়। পুলিশ মনে করছে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের থেকে সাহায্য নিয়েই পেশাদাররা এই খুনটি করে। এদিকে বাজেয়াপ্ত নিসান মাইক্রা গাড়িতে কোনও আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। সেই গাড়িটির নম্বরটি ভুয়ো বলে জানা যায়। তবে এই গাড়ির আগের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এই গাড়ির চ্যাসিস নম্বর সব জায়গা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকী গাড়ির রেডিয়েটরের পাশে যে স্টিকার থাকে, তাও ঘষে দেওয়া হয়।