বিধাননগর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, কেষ্টপুর এলাকায় বলাই মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি তাঁর একটি দোকান সংস্কার করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা তোলা চেয়েছিলেন ওই পুর প্রতিনিধি। দাবি মতো টাকা না দিলে দোকান সংস্কারের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দাবি করা টাকার পরিমাণ কমে রফা হয়। শেষে ওই ব্যক্তি বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।
গত বছরের অগস্টে বলাই মণ্ডল নিজের দোকানের সংস্কারের কাজ শুরু করতে যান। কিন্তু সেই কাজ বন্ধ করে দিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেন অভিযুক্ত সুশোভন মণ্ডল। শেষে তিন লক্ষ টাকায় রফা হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেন সুশোভন মণ্ডল। তাঁর পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পুরপ্রতিনিধিকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে বারাসত আদালতে পেশ করা হলে পাঁচ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে বাগুইআটি থানার পুলিশ তোলাবাজি, মারধরের অভিযোগে বিধাননগর পুরসভার ন’নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সমরেশ চক্রবর্তী ওরফে চিন্টুকেও গ্রেফতার করেছিল। এদিকে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে নতুন করে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সমাজমাধ্যমে মঙ্গলবার রাত থেকেই তাঁর গ্রেফতারির খবর ঘিরে শুরু হয় তুমুল চর্চা। দেবরাজ চক্রবর্তী কীর্তনশিল্পী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী হিসেবেও পরিচিত। বিজেপির একাধিক নেতার পোস্ট ঘিরেই এই জল্পনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম রাজনৈতিক মহলে উঠে এসেছে। বিধানসভা ভোটের প্রচারেও তাঁকে নিয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি। ভোটে তাঁর স্ত্রীর হারের পরে তাঁকে এবং অদিতিকে কাঁদতে কাঁদতে গণনা কেন্দ্র ত্যাগ করতে দেখা গিয়েছিল। তবে এরপর থেকেই আর দেবরাজকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এদিকে ভোটে জিতেই তরুণজ্যোতি দাবি করেছিলেন, দেবরাজকে তিনি গ্রেফতার করাবেন। এহেন দেবরাজের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
