CM Mamata Banerjee: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম বৈধ বলে প্রমাণিত হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। আর ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে নিজের ‘নৈতিক জয়’ হিসেবেই দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এই রায়ের খবর পাওয়ার পরেই কোচবিহারের জনসভা থেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘আজ আমার থেকে খুশি আর কেউ নেই।’
এসআইআর-এ যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে এবং যাঁদের নাম বিচারাধীন, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। এই আবহে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২১ ও ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র পাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। ফলে, প্রথম দফার (২৩ এপ্রিল) ভোটাররা ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফার (২৯ এপ্রিল) ভোটাররা ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনাল থেকে ছাড়পত্র পেলে বুথে গিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কোচবিহারের এবিএন শীল কলেজের মাঠ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আই অ্যাম সো হ্যাপি…সবাইকে বলেছিলাম ধৈর্য রাখুন। অ্যাজুডিকেশন হলে আবেদন করুন ট্রাইব্যুনালে। সবাই হয়তো করেছে। আমি নিজে কেস করেছিলাম। আমার কেসের উপর…আজ আমার থেকে খুশি আর কেউ নেই।’
এদিন দলীয় কর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটের জন্য সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরোবে ২১ এপ্রিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘নেতা-কর্মীদের বলব, রাতের মধ্যে ভোটার স্লিপ তৈরি করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে। যাতে তাঁরা ভোট দিতে পারেন।’ ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ২ দিন আগে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরোবে, সেক্ষেত্রেও এই কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যাঁদের নাম নতুন করে তালিকায় ফিরছে, তাঁদের ভোটদান যাতে সুনিশ্চিত হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। বলে রাখা ভালো, রাজ্যে এসআইআর পর্বে ৬০ লক্ষাধিক নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের স্ক্রুটিনির পর প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে যায়। এরপর নিয়ম মেনে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দেওয়ায় সংশয় তৈরি হয়েছিল যে, ট্রাইবুনাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও ওই ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কিনা। সুপ্রিম কোর্ট এদিন সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের মাত্র ২ দিন আগে ছাড়পত্র পেলেও তাঁদের ভোটাধিকার বজায় থাকবে।
