২০২৬ সালের জনগণনা ঘিরে এবার রাজ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। এই বিষয়েই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, জনগণনার প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন দফতরের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে ওই বৈঠকে। রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জনগণনাকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য প্রশাসনও নিজেদের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে চাইছে। বৈঠকে জনগণনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের কাজ কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, জনগণনার কাজে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ এই বৃহৎ কর্মসূচির সঙ্গে প্রশাসনের একাধিক স্তর যুক্ত থাকে। জেলা প্রশাসন, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং অন্যান্য সরকারি দফতরের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও কথাবার্তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনগণনার সময় নাগরিকদের বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই তথ্য ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সমস্ত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনাকে ঘিরে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি বা অসুবিধা যাতে না তৈরি হয়, সে দিকেও নজর রাখা হবে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজের গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের জনগণনাকে সামনে রেখে রাজ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যে জোরদার হচ্ছে, এই বৈঠক তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জনগণনায় তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হবে সুরক্ষিত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপের নাম হল ‘এইচএলও’ (HLO)। এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন জেলাশাসকরা। জনগণনা সংক্রান্ত তথ্য জানতে গেলে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১১৮৫ নম্বরে ফোন করা যাবে। জানা গিয়েছে, ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে।