CM Suvendu Adhikari। চন্দ্রনাথ-হত্যাকাণ্ডের পর বাড়তি সতর্কতা? মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নজিরবিহীন ‘ডাবল কবচ’

Spread the love

CM Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সেই ছক কষা খুনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। তাই নবান্ন সূত্রে খবর, আপাতত ঠিক হয়েছে, কোনও একক বাহিনী নয়, বরং আগামী কয়েক মাস রাজ্য ও কেন্দ্র-দুই বাহিনীর সংমিশ্রণে এক অভেদ্য নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় দেখা যাবে রাজ্য পুলিশকেও।

কেন এই বাড়তি সতর্কতা?

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেতেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে তিনি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হওয়ার পরেও সেই নিরাপত্তা বজায় ছিল। যদিও তৎকালীন রাজ্য সরকার ভবানীপুরের বিধায়কের জন্য পুলিশি নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিল, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী নিজে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর ওপর একাধিকবার হামলার চেষ্টা হওয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে জেড পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত সিআরপিএফ-এর সেই ঘেরাটোপেই ছিলেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর প্রোটোকল অনুযায়ী রাজ্য পুলিশ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে আসার কথা। কিন্তু চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনা বাংলা ও দিল্লি-উভয় পক্ষকেই চিন্তায় ফেলেছে।

নবান্নের নতুন পরিকল্পনা

নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন রাজ্য পুলিশের। কিন্তু ৬ মে রাতের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। নবান্ন সূত্রে খবর, বর্তমান পরিস্থিতির স্পর্শকাতরতা বিচার করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক শুভেন্দু অধিকারীর পুরোনো কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা এখনই প্রত্যাহার করছে না। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের বিশেষ উইংও তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।

নিরাপত্তা বনাম স্বাচ্ছন্দ্য

তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা বা বাড়তি কড়াকড়ি খুব একটা পছন্দ করেন না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ রাখতে অভ্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী যাতে বিরক্ত না হন, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, মুখ্যমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা দেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু তাঁর জনসম্পর্ক বা কর্মসূচিতে যাতে কোনও বাধা না আসে, সেভাবেই পুরো ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। আপাতত কয়েক মাস এই ‘ডবল লেয়ার’ নিরাপত্তাতেই মুড়ে রাখা হবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই, চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি যেন কোনওভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর আশেপাশে না ঘটতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *