নভেম্বর মাসে ধর্মেন্দ্র এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, যা কেবল তাঁর পরিবার এবং বন্ধুদের জন্যই নয়, ভক্ত এবং ইন্ডাস্ট্রির জন্যও বড় ধাক্কা। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পরে, বেশ কয়েকটি প্রার্থনা সভা আয়োজন করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি তাঁর প্রথম স্ত্রী এবং প্রথম পক্ষের দুই ছেলে সানি-ববি রেখেছিলেন। ওই একই দিনে মুম্বইয়ের নিজের বাড়িতে প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছিলেন হেমা।
সম্প্রতি গটি গ্যালাক্সি থিয়েটারের মালিক মনোজ দেশাই বর্ষীয়ান অভিনেতার পরিবারের তরফে একইদিনে আয়োজিত দুটি প্রার্থনা সভা সম্পর্কে কথা বলেছেন। তাঁর মত, নিজের বাড়িতে পৃথক প্রার্থনা সভা রাখার যে সিদ্ধান্ত হেমা নিয়েছেন, তা এক্কেবারে সঠিক।
মনোজ বলেন, ‘হেমাজির ওখানে না আসা দেখে আমি অবাক হইনি। এই বিষয়ে কোনও বিতর্ক বা আলোচনা হওয়ার আগেই তিনি আলাদা প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছিলেন। ভালো হয়েছে তিনি আসেননি। ধর্মেন্দ্রজি আর হেমা একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন, কিন্তু যদি কেউ ওদের কিছু বলত, তাহলে পুরো প্রার্থনা সভাটাই নষ্ট হয়ে যেত। তাই ওরা ঠিক কাজটাই করেছে, আলাদা একটা প্রার্থনা সভা রেখেছিল।’
সানি-ববি আয়োজিত প্রার্থনা সভা প্রসঙ্গে মনোজ বলেন, ‘ওখানে গাড়ির লাইন পড়ে গিয়েছিল। আমার গাড়ি ছিল ৮৬ নম্বরে। প্রার্থনাসভায় স্তোত্র গাওয়া হচ্ছিল। আমি সানির সঙ্গে দেখা করে ওকে বলেছিলাম, অনেক মানুষ আসছেন, আমি সামনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি। ওঁ আমাকে ধন্যবাদ দেয় আসার জন্য। এরপর আমাকে বাইরে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। কারণ গাড়ির লাইন লেগে গিয়েছিল। এত ভিড় হয়েছিল। মনে হচ্ছিল গোটা দেশ যেন সেখানে এসে হাজির হয়েছে। ’
মনোজ আরও বলেন, ‘আমি এর আগেও অনেক শিল্পীর প্রার্থনা সভায় গিয়েছি, যেমন রাজেশ খান্নার সময় আমি অমিতাভ বচ্চনের পাশে বসেছিলাম। আমি যশ চোপড়ার প্রার্থনা সভাতেও গিয়েছিলাম, কিন্তু ধর্মেন্দ্রজির মতো প্রার্থনা সভা আমি কখনও দেখিনি। মনে হচ্ছিল পুরো দেশ সেখানে ছিল। এমন কেউ ছিল না যিনি সেখানে আসতে চাননি।’

নভেম্বর মাস নাগাদ শারীরিক সমস্যার কারণে ধর্মেন্দ্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। তবে ২৪ নভেম্বর ২ স্ত্রী, ৬ সন্তান ও একগুচ্ছ কালজয়ী সিনেমা রেখে ভক্ত-পরিবার-বন্ধুদের কাঁদিয়ে বিদায় জানান তিনি।