Dutch PM remarks on India। ‘পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব…’ ডাচ PMর সংখ্যালঘু-প্রেস স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য খারিজ ভারতের

Spread the love

Dutch PM remarks on India: ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করল ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেদারল্যান্ডস সফরের সময় এই প্রসঙ্গ ওঠে, আর সেখানেই নয়া দিল্লির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, ভারত এক ‘প্রাণবন্ত গণতন্ত্র’, যেখানে সকলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেদারল্যান্ডস সফরের সময় বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যিনি পর্যসন করেছেন, হয়তো ভারতের সম্পর্কে বোঝাপড়ার অভাব থেকেই এ ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে তাঁর।’ তিনি বলেন, ভারত পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো সভ্যতার দেশ এবং এখানে সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মের অসাধারণ বৈচিত্র্য রয়েছে। জর্জের কথায়, ‘ভারত ১৪০ কোটি মানুষের দেশ, বিশ্বের বৃহত্তম জনবহুল দেশ। পাঁচ হাজার বছরেরও পুরনো সভ্যতার দেশ। সেখানে ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম- সব ক্ষেত্রেই এক অসাধারণ বহুত্ব আছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ- চারটি প্রধান ধর্মের জন্ম এই দেশেই।’ সিবি জর্জ আরও বলেন, ‘ইহুদি সম্প্রদায় ভারতে আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। বিশ্বের খুব কম দেশেই এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে ইহুদিদের কখনও নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়নি… খ্রিস্টধর্ম যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের পরপরই ভারতে আসে এবং এখানে বিকশিত হয়েছে। ইসলামও নবী হজরত মুহাম্মদের (সঃ) সময়েই ভারতে পৌঁছয় এবং সমৃদ্ধ হয়েছে।’

এই মন্তব্যের সূত্রপাত হয় এক ডাচ সাংবাদিকের প্রশ্ন থেকে। ওই সাংবাদিক জানতে চান, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেদারল্যান্ডস সফরে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক কেন হয়নি এবং ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মুসলিম-সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কিনা।’ জবাবে সিবি জর্জ সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের দেশে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোটার অংশ নিয়েছেন। এটাই ভারতের সৌন্দর্য।’ ভারতকে ‘প্রাণবন্ত গণতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বজায় রেখেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ করেছে। দারিদ্র্য দূর করতে আমরা কখনও হিংসার পথ বেছে নিইনি। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা করেছি।’ পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধিকেও সহাবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন জর্জ। তাঁর কথায়, ‘স্বাধীনতার সময় ভারতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ। এখন তা ২০ শতাংশেরও বেশি। এমন কোনও দেশের নাম বলতে পারবেন যেখানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেড়েছে? ভারতের বাইরে এমন উদাহরণ খুব কমই মিলবে। এটাই ভারতের সৌন্দর্য। আমি অনুরোধ করব, ভারত সম্পর্কে আরও জানুন, তাহলে দেশের অগ্রগতি ও বৈচিত্র্যকে আরও ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *