আজ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংঘাত বাঁধে নির্বাচনী আধিকারিকদের। এরপরই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজিরবিহীন ভাবে তৃণমূলের নাম নিয়ে পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা হয়, ‘তৃণমূলকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবারে ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, হুমকিমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত, ছাপ্পাহীন, বুথ-জাম ছাড়াই নির্বাচন হবে।’ আর এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে পালটা পোস্ট করে লেখা হয়, ‘একটি নিরেপক্ষ সাংবিধানিক সংস্থার থেকে কি এমন আচরণ আশা করা যায়? সোজা কথা সোজা ভাবেই বলছি: মুখোশটা এ বার খুলে ফেলুন!’
উল্লেখ্য, এসআইআরে বাদ পড়া ৯১ লাখ ভোটারদের ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলতে দিল্লিতে নির্বাচন সদনে গিয়েছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে কয়েক মিনিট কমিশনের অফিসে থাকার পরই বেরিয়ে আসেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর এরপরই ডেরেক ও’ব্রায়েন বিস্ফোরক অভিযোগ করেন নির্বাচনী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। ডেরেকের দাবি, তৃণমূল সাংসদদের বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে কমিশনের দফতর থেকে। তিনি বলেন, ‘৭ মিনিটের মধ্যে আমাদের বলা হয় – গেট লস্ট’। তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ন’টা চিঠি লিখলেও কেন একটা চিঠিরও প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়নি বলে প্রশ্ন তুলেছেন ডেরেক।
রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন সদনের অন্দরে দুই পক্ষের বাদানুবাদ হয় আজ। সেই সময় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওপর চেঁচান ডেরেক এবং জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশ্যে নাকি তিনি বলেন, ‘কোনও কথা বলবেন না।’ এদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বারংবার যোগাযোগ করা হলেও নির্বাচন কমিশন তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেয় না। এই আবহে তৃণমূল নেতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘টা কি নির্বাচন কমিশন না অন্য আরও কিছু। আমরা আজ কিছু ইস্যু উত্থাপন করতে এসেছিলাম। তবে আজও কোনও প্রতিক্রিয়া ছিল না নির্বাচনী আধিকারিকদের। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আমাদের বৈঠকের সাত মিনিটের মধ্যে বলেন – গেট লস্ট। আমরা সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল। সেই দলের চারজন সংসদকে বলেছেন, এখান থেকে বেরিয়ে যাও।’

ডেরেক আরও বলেন, ‘আমি কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করছি। আজ যা হয়েছে, তার ভিডিয়ো প্রকাশ করুন। আমি ২২ বছর রাজনীতি করছি, ১৬ বছর সাংসদ আছি, কিন্তু আজ যে অভিজ্ঞতা হল, সেটা এক কথায় লজ্জার।’ এদিকে কমিশনের বক্তব্য, ডেরেক ও ব্রায়েন ভিতরে ঢুকে চিৎকার করতে থাকেন। ডেরেককে ভদ্র ব্যবহার করার কথা বলেন কমিশনার। বুঝিয়ে বলেন যে এভাবে চেঁচিয়ে কথা বলা উচিৎ নয়। তবে ডেরেক বেরিয়ে এসে দাবি করেন, তাঁদের সঙ্গে কোনও কথাই হয়নি কমিশনারের। আর এরপরই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে নির্বাচন কমিশন।