EU’s top diplomat Kaja Kallas: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)’র বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে পাকিস্তানকে মানবাধিকার সংস্কার করতে হবে। ইসলামাবাদকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদেশনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। সোমবার অষ্টম ইইউ-পাকিস্তান কৌশলগত সংলাপে দুই পক্ষের মধ্যে কাঠামোগত সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হয়। এই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা, অভিবাসন, টেকসই উন্নয়ন ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এরপরেই পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাজা কালাস স্পষ্ট জানান, ইউরোপীয় বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার (জিএসপি প্লাস) বজায় রাখার শর্তই হল পাকিস্তানকে মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ক্ষেত্রে বাস্তব উন্নতি দেখতে হবে, কারণ মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের মতো বিষয়গুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একেবারে মৌলিক মূল্যবোধের অংশ।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে পাকিস্তানকে ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা দিয়ে রেখেছে। এই বিশেষ সুবিধার আওতায় পাকিস্তানি রপ্তানিকারকরা কোনও রকম শুল্ক না দিয়েই ইউরোপের দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ পায়, যা দেশটির দুর্বল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইইউ-এর এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর, বাণিজ্য সুবিধা টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তানকে এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের শর্তগুলো পূরণে বাধ্য হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি এবং সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, শেহবাজ শরিফ কাজা কালাসকে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রচেষ্টায় ইইউ-র সমর্থনকে প্রশংসা করে পাকিস্তান। পাশাপাশি এই প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকা তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে, কাজা কাল্লাস পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান বর্তমানে আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘটিত অসংখ্য সংঘাত অস্থিতিশীলতা ও চরমপন্থাকে আরও উস্কে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এ কারণেই আমরা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানিয়ে আসছি। কেবল আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।’
