প্রবাদেই আছে, সুসময়ে অনেকেই পাশে থাকে, কিন্তু অসময়ে ছায়াও সাথ ছাড়ে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটার পর এই চরম সত্যিটাই যেন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে টলিপাড়ার একঝাঁক তারকা এতদিন তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে মঞ্চ আলো করে থাকতেন, দিদিমণির হাত ধরে ভোটের বৈতরণী পার হতেন, আজ বিপর্যয়ের পর ওনাদের কাউকেই আর তৃণমূলের ঝাণ্ডা হাতে বা মমতার পাশে দেখা যাচ্ছে না। ক্ষমতার অলিন্দে হওয়া এই আকস্মিক দলবদল এবং তারকাদের ভোলবদল নিয়ে এখন চরম হুলুস্থুল স্টুডিওপাড়ার অন্দরে।
মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ধর্না মঞ্চে তৃণমূলের কোনও তারকা সাংসদ, বিধায়কের দেখা মেলেনি। ভোটে হেরো লাভলি মৈত্র, সোহম, সায়ন্তিকারা তো বাদ দিন, আপতত তৃণমূলের সাংসদ পদে থাকা দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষরাও হাজির ছিলেন না। তবে ব্যতিক্রম কেবল তিনজন। এদিনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন টেলিপাড়ার তারকা দম্পতি অর্ণব-ময়না। এবং সুভদ্রা মুখোপাধ্য়ায়। তাঁরা দিদির পাশে আছেন, সাথে আছেন এদিনও জোর গলায় জানালেন।
নির্বাচনী বিপর্যয় আর টলিউডের ‘ডিগবাজি’র চেনা ছক
২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার রাজনৈতিক সমীকরণ রাতারাতি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। যে সব নামী তারকা, পরিচালক এবং কলাকুশলীরা এতদিন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রতিটি ছোট-বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতেন, ওনাদের একটা বড় অংশই এখন সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছেন।
স্টুডিওপাড়ার কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অনেকেই নাকি ইতিমধ্যে নতুন শাসকদলের হেভিওয়েট নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছেন, যাতে আগামী দিনে ওনাদের ক্যারিয়ার বা সরকারি অনুদানে কোনো কোপ না পড়ে। অতীতেও ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে টলিপাড়ার এই ভোলবদল দেখা গিয়েছিল, এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হলো না।

কারুকার্য শেষ, এবার দিদির পাশ থেকে কারা ‘উধাও’?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙন ধরেছে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই তারকা বাহিনী। লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাওয়া অনেক তারকা সাংসদ ও বিধায়ক, যাঁরা এতদিন মমতার অত্যন্ত স্নেহধন্য বলে পরিচিত ছিলেন, ওনাদের অনেকেই এখন দলীয় বৈঠক এড়িয়ে চলছেন। কেউ কেউ আবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওনারা এখন রাজনীতি থেকে দূরে থেকে স্রেফ নিজেদের অভিনয় বা পরিচালনায় মন দিতে চান!
বিপর্যয়ের এই আবহে মমতার পাশে এখন হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন বিশ্বস্ত পুরনো মুখ ছাড়া আর কাউকেই বিশেষ দেখা যাচ্ছে না। বাংলার আমজনতাও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘সুবিধাবাদী’ তারকাদের চেনা রূপ দেখে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। এখন দেখার, এই কঠিন সময়ে টলিপাড়ার চেনা চাটুকারিতা ঝেড়ে ফেলে কারা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সাথে থাকেন, আর কারা নতুন সরকারের রাজদরবারে নিজেদের নাম লেখান!