RBI Gold Selling Report। চাপের মুখে সোনার ভাণ্ডার থেকে বিক্রি?

Spread the love

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার এবং টাকার (রুপি) উপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সম্প্রতি তাদের সোনার মজুদের একটি অংশ বিক্রি করে থাকতে পারে বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মে মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত দুই সপ্তাহে আরবিআই প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনার রিজার্ভ বিক্রি করে থাকতে পারে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং টাকার উপর চাপের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারকে সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারেও পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। আরবিআই-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ সপ্তাহে দেশের ফরেক্স রিজার্ভ এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। এই পতনের পিছনে সোনার রিজার্ভের মূল্যহ্রাস এবং বিদেশি মুদ্রা সম্পদের কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ১৯৯১ সালে দেশের সরকারি স্বর্ণভাণ্ডারের ৪৭ টন সোনা পাঠানো হয়েছিল ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডে। এর কয়েকদিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ২০ টন সোনা পাঠানো হয়েছিল সুইৎজারল্যান্ডে।

তবে বর্তমানে সোনা বিক্রি নিয়ে এখনও পর্যন্ত আরবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে সোনা বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই এই বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল টাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে বড় ধাক্কার হাত থেকে রক্ষা করা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই আরবিআই দেশের ভিতরে সোনার মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতের মোট সোনার ভাণ্ডারের বড় অংশ দেশেই সংরক্ষিত রয়েছে বলে আরবিআই-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক এই সম্ভাব্য বিক্রি নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর আরবিআই-এর আনুষ্ঠানিক অবস্থানের দিকে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক যদি এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়, তাহলে সোনা বিক্রির জল্পনা ও তার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ছবি সামনে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *