টিটাগড় পুরসভায় রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহের মধ্যেই গ্রেপ্তার হলেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলর ইনাম খান। শুক্রবার রাতেই খড়দহ থানার পুলিশ তাঁকে টিটাগড়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তবে এতদিন প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি এলাকার বহু মানুষ। রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
ইনাম খানের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। শুক্রবার টিটাগড় পুরসভায় বড়সড় ধাক্কা খায় তৃণমূল। ২১ সদস্যের পুরবোর্ডে একসঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান-সহ মোট ছয় জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারীদের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মহম্মদ জলিল, কাউন্সিলর মুজিবর রহমান, আশা শর্মা, সরস্বতী দাস এবং ইনাম খান।
পদত্যাগী কাউন্সিলরদের বক্তব্য ছিল, তাঁরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছিলেন না। পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগ নেই বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এই অবস্থায় একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপরই শুক্রবার রাতে ইনাম খানের গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসে। ফলে টিটাগড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, পদত্যাগ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না তা নিয়েও। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন এলাকায় দুর্নীতি, কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদও দেখা যাচ্ছে। সেই আবহেই টিটাগড়ের কাউন্সিলর ইনাম খানের গ্রেপ্তারি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।