Falta Ex BDO Shanu Bakshi: ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সিকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি অভিযোগ করেছেন, ফলতায় ভোটে কারচুপির পিছনে তৎকালীন বিডিও শানু বক্সির ভূমিকা ছিল। তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে শানুর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট থেকেই সেই যোগসূত্র স্পষ্ট। ২০২৪ সালে এই ফলতাতেই এই ফলতায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস। এবার তিনি পেশ করলেন ‘প্রমাণ’।
ববির অভিযোগ, জাহাঙ্গির খানের প্রভাবেই শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও করা হয়েছিল এবং সেই সময় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, লোকসভা ভোটের সময় প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রভাবিত করা থেকে শুরু করে ইভিএমে সেলোটেপ লাগানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি।
এদিকে ববি যে চ্যাট প্রকাশ্যে এনেছেন, তাতে কী দাবি করা হচ্ছে? এই নিয়ে ফেসবুক পোস্টে বিজেপি নেতা লেখেন, ‘শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও বানানোর অপারেশন (হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে ফাঁস জাহাঙ্গির খান, ‘বস’, ডিএম লবি ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের বিস্ফোরক যোগসূত্র!) (এসব পেলাম কোত্থেকে? ভাইপো আমাদের মধ্যে মোল ঢুকিয়েছে প্রচুর,আমি কি বসেছিলাম?) ৩১ জানুয়ারি ২০২৪-এর স্ক্রিনশটে দেখা যায়, শানু বক্সি নিজে জাহাঙ্গির খানকে একাধিক সরকারি পিডিএফ ডকুমেন্ট পাঠাচ্ছেন। এরপর জাহাঙ্গির জবাবে লেখেন, শানু করে দিলাম। যেটা বলেছি, সেটা করলাম। এরপর অন্য একটি চ্যাটে জাহাঙ্গির লিখছেন – উঠলো না, এফবি-তে দাও স্ক্রিনশট, হোয়াটসঅ্যাপে আসছে না। জবাবে শানু লেখেন – দাঁড়াও করছি তোমাকে, একটু ওয়েট। তুমি হ্যাঁ করলে আমার জন্য। সত্যি, এটা জীবনে ভুলব না। একটি চ্যাটে আবার শানুকে লিখতে দেখা গিয়েছে- তুমি আবার ফিল্ডে নামবে। নিজের পোজিশন স্ট্রিং করবে, সব আগের মত করতে হবে। এটা আমার রিকুয়েস্ট। জবাবে জাহাঙ্গির লেখেন – হেহে এসব করেই লাইফ কাটিয়ে দেব।’ এই সবের মাঝে ২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির একটি চ্যাটও আছে। তাতে জাহাঙ্গিরকে লিখতে দেখা গিয়েছে – আজ থেকে শানু বক্সি বিডিও ফলতা তাহলে। জবাব আসে – হ্যাঁ গো। ববির অভিযোগ, শানুকে ফলতার বিডিও করে আনার কারিগর তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানই। অভিজিৎ দাস ওরফে ববি বলছেন, ববি-শানুর চ্যাট থেকেই সবটা পরিষ্কার। ও বিডিও হওয়ার ফলে লোকসভা ভোটে প্রিসাইডিং অফিসারদের চমকে, ইভিএমে সেলোটেপ মেরেছিলেন। তদন্ত দরকার।

শানু বক্সিকে নিয়ে অতীতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁকে ‘সাদা খাতার বিডিও’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থেকে ফলতায় বদলি হয়ে আসেন শানু বক্সি। পরে বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন তাঁকে ফলতা থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি মালদহের হরিশচন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও পদে রয়েছেন।
অভিযোগের জবাবে শানু বক্সি জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া চ্যাট সত্যি কি না তা প্রমাণ করতে হবে। তাঁর দাবি, এআই-এর যুগে অনেক কিছুই তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পেয়েছেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপ মেনে নেবেন।