আরজি কর কাণ্ডে ফের নতুন মোড়। কলকাতা হাই কোর্ট এবার সিবিআইকে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই সিট (স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম) গঠন করতে হবে এবং খতিয়ে দেখতে হবে, প্রথম দিকের তদন্তে কোনও গাফিলতি, প্রমাণ লোপাট বা তথ্য চেপে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না।
বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালত জানিয়েছে, সিট-এর নেতৃত্বে থাকতে হবে সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর পদমর্যাদার এক আধিকারিককে। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হাই কোর্ট জানিয়েছে, প্রয়োজনে নিহতের পরিবার কিংবা খুনে সাজাপ্রাপ্ত–সকলকেই নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন তদন্তকারী অফিসাররা।
নিহত চিকিৎসকের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল, সিবিআই তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষিত হয়েছে এবং কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের অনেক বিষয় কার্যত মেনে নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা নতুন করে তদন্তের দাবি জানান। আদালতও পর্যবেক্ষণে জানায়, পরিবারের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়, সেদিন সকালে চিকিৎসক তরুণীর মায়ের কাছে তিনটি কল এসেছিল। তাতে একেকবার একেক রকম তথ্য দেওয়া হয়। গোটা ঘটনায় কোনও না কোনও অসৎ উদ্দেশ্য বা গরমিল ছিল। এই আবহে উচ্চ আদালতের বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘৭ অক্টোবর, ২০২৪-এ নিম্ন আদালতে চার্জশিট জমা পড়েছে। তারপরেও সিবিআই এখনও তদন্ত করছে? তার মানে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি?’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। পরে এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। যদিও সিবিআই পরে তার ফাঁসির দাবিতে হাই কোর্টে আবেদন করে। একই সঙ্গে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগও সামনে আসে।