FIFA WC Spain Vs Saudi Arabia। কেপ ভার্দে ম্যাচের হতাশা ভুলল স্পেন! গত বিশ্বকাপে মেসিকে হারানো সৌদিকে দিল ৪ গোল

Spread the love

ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কাছ থেকে এমন নিষ্প্রভ ফুটবল আশা করেনি অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমী। তবে সেই নিরাশা দূর করে দ্বিতীয় ম্যাচেই দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। আটলান্টায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম শক্তির পরিচয় দিল ‘লা রোজা’রা। এই জয়ের ফলে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে নিজেদের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও তুলে ধরল স্পেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে সৌদি রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে স্পেন। অন্যদিকে সৌদি আরব প্রায় পুরো দল নিয়ে নিজেদের অর্ধে রক্ষণ সামলানোর চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু স্পেনের দ্রুত পাসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে সেই পরিকল্পনা বেশিক্ষণ টিকল না। ১০ মিনিটেই স্পেন এগিয়ে যায়। বাঁ দিক থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের নিখুঁত ক্রসে গোল করেন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। বিশ্বকাপে এটি ছিল ইয়ামালের প্রথম গোল।

২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওইয়ারসাবাল। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। মাত্র তিন মিনিট পর আবারও গোল করেন স্পেনের এই ফরোয়ার্ড। দানি ওলমোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। প্রথমার্ধের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। ওইয়ারসাবাল আরও একটি গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এদিন মাঝমাঠে দুর্দান্ত খেলেন রদ্রি। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে আক্রমণ গড়ে তোলা, সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। স্পেনের আক্রমণের বেশিরভাগই এসেছে তাঁর মাধ্যমে।

এদিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামাল ও ওইয়ারসাবালকে বিশ্রাম দেন। কিন্তু তাতেও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। ৪৯ মিনিটে চতুর্থ গোল করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। অবশ্য সেটি ছিল আত্মঘাতী গোল। আলেক্স বায়েনার কর্নারের পরে সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল-তাম্বাকতির গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে যায়। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ৬৫ মিনিটে ফেরান তোরেস গোলের সুযোগ পেলেও তাঁর শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ইনজুরি সময়ে তোরেস বল জালে জড়ালেও ভিএআর-এ তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।

পুরো ম্যাচে সৌদি আরব কার্যত স্পেনের সামনে অসহায় দেখিয়েছে। ৮০ মিনিটের আগে তারা উল্লেখযোগ্য কোনও আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি। আর এই সৌদি গত বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। তবে এই ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ, খেলার ছন্দ বজায় রাখা, সব ক্ষেত্রেই স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে এই জয় স্পেনকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিল। এই জয়ের ফলে ‘এইচ’ গ্রুপে শীর্ষে উঠেছে স্পেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *