Finance Minister Swapan Dasgupta। তৃণমূলের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা! ৮ লাখ কোটির ঋণ নিয়ে বার্তা অর্থমন্ত্রীর

Spread the love

বিধানসভায় বাজেট নিয়ে অতিরিক্ত জবাবি ভাষণে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে শাসক ও বিরোধী সব পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আগের সরকারের আমলের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ করে একটি শ্বেতপত্র আনা হবে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রতিটি সরকারি দপ্তরের আর্থিক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হবে। ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (ক্যাগ)-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে কোথায় কী ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা মানুষের সামনে স্পষ্ট হবে।

বাজেট আলোচনায় নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্যও ব্যাখ্যা করেন তিনি। স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সুবিধা পেতেন। কিন্তু নতুন সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনায় শুধুমাত্র যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁদেরই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তাঁর মতে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়েও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে মাত্র ৪ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়েছিল। নতুন সরকার কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কমানোর চেষ্টা করছে। আগামী বছরের মার্চ মাসে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের সময় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের অর্থ রাজ্যে আসতে নানা কারণে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি জানান, কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার করা গেলে কেন্দ্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা অনুদান পাওয়া সম্ভব। এতে রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি আরও গতি পাবে বলে তাঁর আশা।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদের তোলা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা প্রসঙ্গেও জবাব দেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, এই বিশাল আর্থিক দায় নিয়েই নতুন সরকার কাজ শুরু করেছে। তবে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের অর্থ দেশেরই অর্থ এবং পশ্চিমবঙ্গও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *