RG Kar Case। আরজি কর কাণ্ডে CBI-র ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট

Spread the love

RG Kar Case: আরজি করের চিকিৎসক-ছাত্রী ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ কার্যত ভর্ৎসনা করল সিবিআইকে। উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, গত ২১ মে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী তদন্তের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। আদালতের স্পষ্ট প্রশ্ন, ‘সিবিআই কী হাইকোর্টের ঊর্ধ্বে? আমাদের কী তবে তদন্তভার তাদের হাত থেকে কেড়ে নিতে হবে?’ অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবারও সিবিআইয়ের তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। পরিবারের বক্তব্য, যদি সিবিআই কার্যকর তদন্ত করতে না পারে, তাহলে মামলার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হোক।

২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় সাজা পেলেও, পরিবারের দাবি অনুযায়ী ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ বা তথ্যের অকাট্য প্রমাণের খোঁজে গত ২১ মে কলকাতা হাইকোর্ট সিট গঠন করে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও সিবিআই-এর রিপোর্ট সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘২০২৪ সালের অক্টোবরে আরজি কর মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। তার পর থেকে তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি। গত ১ বছর আট মাস ধরে তদন্ত একই জায়গায় রয়েছে। কী করছে সিবিআই? আমাদের নির্দেশে সব বলা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও সঠিক ভাবে তদন্ত করা হয়নি। আদালতের সময় নষ্ট করা হয়েছে। এক মাস আগে নির্দেশ দিয়েছিলাম। এই সময়ের মধ্যে আশাতীত কোনও তদন্তই করেনি সিবিআই।’

বিচারপতিদের আরও পর্যবেক্ষণ, ‘সিবিআই কী হাইকোর্টেরও উপরে? আমাদের কী সিবিআইয়ের থেকে মামলা নিয়ে নিতে হবে?’ বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, ‘সেমিনার রুম সম্পূর্ণ নষ্ট। তথ্যপ্রমাণ নষ্টের কোনও তদন্ত হয়নি। একই ব্যাক্তিকে ফের পরীক্ষা করেছে। অগ্রগতি কোথায়? দায়িত্বজ্ঞানহীন সিবিআই অফিসারের কাজ।’ ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‘আদালতের নির্দেশ কী, সেটাই বুঝতে পারছে না সিবিআই।’ সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আরও বলে, ‘এত দিনের তদন্তে কী তথ্য, নথি সংগ্রহ করেছে সিবিআই? ওই ঘটনায় শুধুমাত্র বলা হয়েছে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ কাজ করেছে। কিন্তু তদন্ত রিপোর্টে তার বাইরে কিছু বলা হল না? কারা সিবিআইয়ের হাত বেঁধে রেখেছে? সিবিআইয়ের এত কিসের ইগো? আমরা বিচার দিতে চেয়েছিলাম।’ এর পরেই সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ হয়তো বুঝতে ভুল হয়েছে। তদন্ত চলছে। প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। অন্যদিকে, এদিনের শুনানিতে নির্যাতিতার পরিবার ফের তাঁদের অনাস্থার কথা জানিয়েছে। তাঁদের সাফ দাবি, ‘সিবিআই যদি তদন্তে ব্যর্থ হয়, তবে মামলাটি সিআইডি-কে হস্তান্তর করা হোক।’ এর আগেও সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে বার বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *