তৃণমূলের একাধিক মুখপাত্র ইতিমধ্যেই দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে ৫ নেতাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাউন্টিং এজেন্টের দায়িত্বে থাকা প্রিয়দর্শিনী হাকিম বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। মমতাকে ‘ধৃতরাষ্ট্র’, অভিষেককে ‘দুর্যোধন’ বলে খোঁচা দিলেন ফিরহাদ কন্যা। তাঁর কথায়, ‘চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।’ চর্চিত ফেসবুক পোস্টে প্রিয়দর্শিনী লেখেন, ‘দুটি মহাকাব্য, একটি শিক্ষা। যখন আনুগত্য বিচারবুদ্ধিকে অন্ধ করে দেয়, তখন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে।’
রামায়ণ ও মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে প্রিয়দর্শিনী পরোক্ষ ভাবে যেন বোঝাতে চান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল, আর সেই কারণেই আজ দলের এই বেহাল দশা। তাঁর বক্তব্য, পরিবারতন্ত্রের কারণে বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে। প্রিয়দর্শিনীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বিশেষভাবে স্নেহ করেন এবং ভবানীপুরে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের অনেকটা সামলেছেন তিনি। তবে এহেন প্রিয়দর্শিনী মমতাকে ইঙ্গিত করে ফেসবুক পোস্ট করায় চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এর আগে প্রিয়দর্শিনী হাকিম মমতার গণনা নিয়ে বিজেপিকে তোপ দেগেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপির কর্মীরা নাকি তৃণমূলের এজেন্টদের মারধর করে। তবে এবার সেই প্রিয়দর্শিনী মমতাকে কার্যত ঠুকলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে অভিষেকের সম্পর্ক খুব একটা যে ভালো নয়, তা তৃণমূলের অন্দরে মাঝে মাঝেই শোনা যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দলে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ এবং বয়সের উর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার সওয়াল করেছিলেন, তখন সেই ফতোয়ার বিরুদ্ধে সবথেকে সোচ্চার ছিলেন ফিরহাদ। এহেন অবস্থায় অভিষেকের বিরুদ্ধে ফিরহাদ কন্যার এই ‘বিদ্রোহ’ উল্লেখযোগ্য।
