Ghost Murmur। সত্যি কি বহু ক্রোশ দূর থেকে মানুষের হার্টবিট ট্র্যাক করা যায়? ইরান যুদ্ধে মার্কিন ‘ঘোস্ট মার্মার’ আসলে কী

Spread the love

ইরানে যুদ্ধের মাঝে কিছুদিন আগেই জানা যায়, ইরান, আমেরিকার এক যুদ্ধবিমান এর-৩৫ কে টার্গেট করে ধ্বংস করে। এরপর থেকে শুরু হয় সেদেশে পাইলটের খোঁজ। এদিকে, পরে মার্কিনিরা দাবি করে, তারা ওই ধ্বংস হওয়া বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করে এনেছে ইরানের মাটি থেকে। মার্কিন সেনার যুদ্ধবিদ্যা, যুদ্ধ কৌশল ও যুদ্ধ পরাক্রমের প্রশংসা দিকে দিকে হয়! এরপর আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমস, দাবি করেছে, ইরানের দুর্গম পাহাড়ি প্রান্তর থেকে ওই মার্কিন সেনার পাইলটকে উদ্ধার করতে আমেরিকা ‘ঘোস্ট মার্মার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে! এই রহস্যময় গোপন ‘ঘোস্ট মার্মার’ আসলে কী! এই নিয়ে রিপোর্ট আসার পর থেকেই তুঙ্গে জল্পনা!

‘ঘোস্ট মার্মার’ শব্দটির বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘ভূতুড়ে ফিসফিস’! এই নামের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে মার্কিন এই গোপন অস্ত্রের প্রযুক্তিগত কার্যকারিতার দিক। রিপোর্ট বলছে, এই গোপন প্রযুক্তি, একজন মানুষের হৃদস্পন্দনের ‘ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক সিগনেচার (তড়িৎ চুম্বকীয় ইঙ্গিত)’ বহু দূর থেকে খুঁজে বের করতে পারে। আর রিপোর্টের, দাবি, তা করেই ইরানের প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকা থেকে মার্কিন সেনা ওই ধ্বংস হওয়া মার্কিন বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করে। সূত্রকে উদ্ধৃত করে, ওই রিপোর্ট বলছে, ‘এটা অনেকটা স্টেডিয়ামে কোনও কণ্ঠস্বর শোনার মতো, তবে পার্থক্য হল এই স্টেডিয়ামটি হল হাজার বর্গমাইলের এক মরুভূমি। অনুকূল পরিস্থিতিতে, যদি হৃদস্পন্দন চলতে থাকে, আমরা তাঁকে খুঁজে বের করব।’

‘ঘোস্ট মার্মার’ তৈরি করেছে লকহিড মার্টিনের স্কান্ক ওয়ার্কস, যা ছিল কোম্পানিটির অতি-গোপনীয় গবেষণা বিভাগ, এবং এই অভিযানটিই ছিল এই প্রযুক্তিগত জিনিসটির প্রথম কার্যকারি ব্যবহার। রিপোর্টে সূত্র বলছে, ‘নামটি ইচ্ছাকৃত। ‘মারমার’ (ফিসফিস) হল হৃৎস্পন্দনের ছন্দ বোঝাতে ব্যবহৃত একটি ডাক্তারি পরিভাষা। ‘ঘোস্ট’ (ভূত) বলতে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়াকে বোঝায়, যে কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেছে।’ কেন ইরানের ওই মরু এলাকায় এই প্রযুক্তি সাফল্য দিল! রিপোর্ট বলছে, দুর্ঘটনা স্থলের চারপাশের মরুভূমির ভূখণ্ড ‘ঘোস্ট মার্মার’-এর জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। স্বল্প তড়িৎচুম্বকীয় হস্তক্ষেপ, নগণ্য মানবিক কার্যকলাপ এবং রাতে একটি জীবন্ত দেহ ও শীতল মরুভূমি জমির মধ্যেকার বৈসাদৃশ্য এই বিষয়টিকে একাধিকবার নিশ্চিত করেছে। রিপোর্টের দাবি, ‘ঘোস্ট মার্মারের’ কোয়ান্টাম ম্যাগনেটোমেট্রি এই কারসাজি করেছে! তবে মার্কিন সংবদমাধ্যমের এই প্রযুক্তি সম্পর্কে দাবি নিয়ে বহু জল্পনা, প্রশ্ন উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এর সত্যতা যাচাই নিয়ে বিস্তর কাটাছেঁড়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *