রবিবার যাত্রীদের জন্য বড়সড় ভোগান্তির আশঙ্কা। রেললাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য হাওড়া ডিভিশনের ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছে ৬ ঘণ্টার পাওয়ার ও ট্রাফিক ব্লকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। এর জেরে ২৮ জুন একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই ওই দিন যাত্রীদের বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে ট্রেনের সময় দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রেল।
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছে এই বিশেষ ট্রাফিক ও পাওয়ার ব্লক কার্যকর থাকবে। রেললাইনের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর উন্নতির লক্ষ্যে এই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। তবে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে হাওড়া-কাটোয়া শাখার ট্রেন চলাচলের উপর।
এই ব্লকের কারণে মোট ১২টি লোকাল ট্রেন সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। বাতিল ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে কাটোয়া-ব্যান্ডেল শাখার ৩৭৭৪৬, ৩৭৭৪৮ ও ৩৭৭৫০ নম্বর ট্রেন। ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখার ৩৭৭৪৯, ৩৭৭৫১ ও ৩৭৭৫৩ নম্বর ট্রেনও চলবে না। এছাড়া বাতিল করা হয়েছে হাওড়া-কাটোয়া (৩৭৯১৭), কাটোয়া-হাওড়া (৩৭৯২২), ব্যান্ডেল-নৈহাটি (৩৭৫৪২), নৈহাটি-ব্যান্ডেল (৩৭৫৪১), মেমারি-হাওড়া (৩৭৬৫৬), হাওড়া-মেমারি (৩৭৬৫৫), পাণ্ডুয়া-হাওড়া (৩৭৬১৪) এবং হাওড়া-পাণ্ডুয়া (৩৭৬১১) লোকাল ট্রেন।
শুধু ট্রেন বাতিলই নয়, কয়েকটি ট্রেনের সময়েও পরিবর্তন করা হয়েছে। ৫৩০০১ হাওড়া-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের পরিবর্তে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে, অর্থাৎ ৩০ মিনিট দেরিতে হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে। একইভাবে ৩৭৯২৪ কাটোয়া-হাওড়া লোকাল নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করবে। এছাড়াও কামনারা ও ক্ষেতিয়া স্টেশনের মধ্যে ওভারহেড ইক্যুইপমেন্ট (ওএইচই) রক্ষণাবেক্ষণের কাজও একই দিনে করা হবে। এর ফলে ৩৫০১৭ বর্ধমান-কাটোয়া লোকাল নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ১৫ মিনিট দেরিতে চলবে বলে জানিয়েছে পূর্ব রেল।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রেল পরিষেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। তবে রবিবার যাঁদের হাওড়া, ব্যান্ডেল, কাটোয়া, মেমারি, পাণ্ডুয়া বা নৈহাটি শাখায় যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের আগে থেকেই বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্টেশনে অযথা অপেক্ষা এড়াতে রেলের সরকারি ওয়েবসাইট বা অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচি জেনে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।