Sumit Roy’s Friend Detained। অভিষেকের PA সুমিত রায়ের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি

Spread the love

জমি জালিয়াতি ও তোলাবাজির মামলায় অভিযুক্ত সুমিত রায়ের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এখনও তাঁর সন্ধান না মিললেও, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের খোঁজে এবার সুমিতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পলাশ চক্রবর্তীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হুগলির ব্যান্ডেলে তাঁর বাড়ি থেকে পলাশকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কোন মামলায় বা কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাশ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই সুমিত রায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। শুধু তাই নয়, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানা যাচ্ছে। রাজনীতির সঙ্গেও পলাশের দীর্ঘদিনের যোগ রয়েছে। ছাত্রজীবনে তিনি শ্রীরামপুর কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সক্রিয় কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন। সেই সময় থেকেই শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

পলাশের বাবা প্রদীপ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ পাঁচজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। তাঁদের গাড়িতে ‘পুলিশ’ লেখা ছিল। তাঁরা পলাশকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেও কোন থানার পুলিশ বা সিআইডির আধিকারিক ছিলেন, তা জানাননি। এমনকি কেন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই কারণও পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।

এলাকার বাসিন্দারাও এই ঘটনায় অবাক। তাঁদের বক্তব্য, পলাশ শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবে পরিচিত। পাড়ায় কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিবাদ ছিল না। এমনকি গত বছর এলাকার দুর্গাপুজোয় তিনি অন্যতম বড় স্পনসরও ছিলেন। তাই হঠাৎ করে পুলিশ তাঁকে নিয়ে যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত সুমিত রায়ের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন এবং হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।

এদিকে, সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার আশঙ্কা, তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করতে পারেন। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ‘লুকআউট নোটিস’ জারি করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, পলাশ চক্রবর্তীর কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সুমিতের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *