বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক রাজ্যে খারাপ ফলাফলের পর এবার কৌশল নির্ধারণে বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। সূত্রের খবর, আগামী ৬ জুন এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দিতে পারেন বলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোটের শরিক দলগুলির মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাশামতো না হওয়ায় ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের মধ্যে নতুন করে কৌশল নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের খারাপ ফল, অসমে কংগ্রেসের ভরাডুবি এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র হার। যদিও কেরলে কংগ্রেস জিতেছে, হেরেছে বাম। আবার তামিলনাড়ুতে ভোটের আগে ডিএমকের সাথে জোটে থআকা কংগ্রেস এখন হাত মিলিয়েছে টিভিকের সঙ্গে। এই আবহে ইন্ডিয়া জোটের সমীকরণেও বদল আসতে পারে। কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন এমকে স্ট্যালিন। এর জেরে ডিএমকে বৈঠকে যোগ দেবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন রাজনৈতিক শক্তি টিভিকে-র ইন্ডিয়া জোটে যোগদানের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়াও নজরে রয়েছে বামেদের অবস্থান। কেরলের নির্বাচনে খারাপ ফলের পর সিপিএম ভবিষ্যতে ইন্ডিয়া জোটে কতটা সক্রিয় থাকবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে বাংলাতেও এবার সিপিএম একা লড়ে খাতা খুলেছে। আবার কংগ্রেসও একা লড়েই ২টো আসনে জয় পেয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী বৈঠককে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে এর আগে বাংলায় ভোট প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী নিজে। ভোটের পরে অবশ্য তিনি মমতার সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘রাজ্যে ভোটচুরি হয়েছে’। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল এবং কংগ্রেস দ্রুতই একে অপরের কাছে এসেছে। মূলত মুসলিম ভোটে বিভাজনের ইস্যুতেই তৃণমূল এবার কংগ্রেসকে কাছে পেতে চাইছে বলে মত বেশ কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।