বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতে সিআইডি তদন্তকারীরা

Spread the love

CID in TMC MLA’s House: এবার বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতে সিআইডি আধিকারিকরা। তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের প্রস্তাবপত্রে তাঁর সই না মেলার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। সিআইডি আধিকারিকদের নাকি চন্দ্রনাথ সিনহা জানিয়েছেন, তদন্তে তিনি সাহায্য করবেন। এদিকে তাঁর দাবি, তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থনই রয়েছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি বলেন, পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে শোভনদেবের ডাকা বৈঠকে তৃণমূলের ৭০ জনের মতো বিধায়ক এসেছিলেন। তবে বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তারা তৃণমূলের বিধায়কদের ডেকে দেখতে পারত যে কতজন শোভনদেবকে সমর্থন করছেন। এভাবে মামলা করে ‘নাটক’ করা হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।

এর আগে গত ২৮ মে দুপুর নাগাদ একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে আচমকা পৌঁছে যায় রাজ্য পুলিশের সিআইডি দল। এই ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি রেজোলিউশনে করা স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্কের জেরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছে। এই আবহে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষদের বাড়িতে যান সিআইডি কর্তারা। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতেও গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। এর মধ্যে বাহারুল দাবি করেছেন, রেজোলিউশনে সই তাঁর নয়।

এই ঘটনায় বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরে সেই মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই আবহে ২৮ মে প্রায় ৩টে নাগাদ সিআইডির একটি দল চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয়। জানা যায়, ওই রেজোলিউশনে থাকা স্বাক্ষর আদৌ নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি না, তা খতিয়ে দেখতেই তদন্তকারীরা সেখানে যান। জানা গিয়েছে, সিআইডির ছয় সদস্যের দলে হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারীরা এদিন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্যান কার্ডও পরীক্ষা করে দেখেন। গোটা ঘটনাকে ‘শকিং’ বলে বর্ণনা করেছেন তৃণমূলের এই বিধায়ক। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ৬ মে বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই সময় দলের তরফে একটি ফর্ম্যাট তৈরি করা হয় এবং সেখানে তিনি সই করেছিলেন। তাঁর দাবি, তিনি স্বাক্ষরের বদলে বড় হাতের অক্ষরে নিজের নাম লিখেছিলেন। বর্তমানে যে কাগজ নিয়ে তদন্ত চলছে, সেটি তাঁরই হাতের লেখা বলেও তিনি দাবি করেছেন।

এদিকে তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল আবার বলেন, ‘৬ মে (যেদিন রেজোলিউশন সই হয়) আমি বাড়ি থেকেই বের হইনি। তাহলে আমার সইটা কি ভূতে করল?’ প্রসঙ্গত, বিরোধী দলনেতার নাম স্থির করে সম্মতি স্বরূপ সব বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে একটি রেজোলিউশন জমা দিতে হয় বিধানসভায়। সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখে সেই রেজোলিউশন বিধানসভার স্পিকার গ্রহণ করলে তবেই বিরোধী দলনেতা তাঁর মর্যাদা পান বিধানসভায়। তবে তৃণমূলের জমা করা রেজোলিউশন ঘিরে শুরু হয় জটিলতা। এই আবহে এখনও বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাননি শোভনদেব। আর এবার সেটা নিয়ে তদন্তে নেমেছে সিআইডি। সেই মামলার তদন্তেই আজ চন্দ্রনাথের বাড়িতে যান তদন্তকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *