Jakarta-New Delhi relationship: ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মঙ্গলবার তাঁর লাকি নম্বর ‘৮’ বলে উল্লেখ করার পর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাকার্তা ও নয়া দিল্লির সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংখ্যার বারবার ফিরে আসার বিষয়টি তুলে ধরেন। ইন্দোনেশিয়া সফরকালে ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি মঞ্চে ওঠার আগে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর জীবনে ৮ সংখ্যার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ‘ভাগ্য আমাকে ইন্দোনেশিয়ার অষ্টম প্রেসিডেন্ট করেছে। আপনারা জানেন, ৮ আমার লাকি নম্বর। আর সত্যি বলতে, আমার পুরো কর্মজীবন জুড়েই আমি ৮ সংখ্যাটিকে বারবার খুঁজে পেয়েছি। আমি সপ্তম প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ভাগ্য আমাকে অষ্টম করেছে।’ এরপরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন মঞ্চে আসেন, তখন তিনি এই ৮ সংখ্যাটিকে ভারত এবং সুবিয়ান্তোর মধ্যে সম্পর্ককে এক সুতোয় বেঁধে দেন।
৮ নম্বর ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
ইন্দনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৮ সংখ্যাটি নিয়ে আরও গভীরে প্রবেশ করেন এবং ইন্দোনেশিয়ার এই নেতার সঙ্গে ভারতের সংযোগকারী আরও কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মুখে হাসির জুগিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘ভারত গত বছর ২৬ জানুয়ারি তার প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করেছিল। দুই যোগ ছয় কত হয়?’ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট গত বছর নয়া দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী এখানেই থেমে থাকেননি। নিজের যুক্তিকে আরও জোরালো করতে তিনি সুবিয়ান্তোর জন্ম তারিখের সংখ্যাগুলোও যোগ করে ৮ মিলিয়ে দেখান। তিনি আরও বলেন, ‘আর আমার বন্ধুর জন্মদিনও ১৭ তারিখ। এক যোগ সাত।’ তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সবার মধ্যে আরও হাসির রোল ওঠে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের দাবি, তাঁর শরীরে রয়েছে ‘ভারতীয় ডিএনএ’
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সাম্প্রতিক ভারত সফরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে সফরকালে প্রবোও বলেছিলেন, ‘আমার শরীরে ভারতের ডিএনএ রয়েছে।’ এই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন যে আপনার ডিএনএ-তে ভারতের ছাপ রয়েছে। সেই একটি বাক্য কোটি কোটি ভারতীয়র হৃদয় জয় করেছিল এবং আজও সেটিই সর্বাধিক করতালির সৃষ্টি করেছে। আমি বলতে চাই, এই ডিএনএ গড়ে উঠেছে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং অভিন্ন ইতিহাসের ভিত্তিতে।’ অন্যদিকে, হাসতে হাসতে সুবিয়ান্তো বলেন, ‘সে কারণেই হয়তো আমি যখনই কোনও গান, বিশেষ করে ভারতীয় গান শুনি, আমার শরীর আপনাআপনিই দুলতে শুরু করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাসাদের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আমার সমস্ত মন্ত্রী ও জেনারেলরা নাচতে এবং গাইতে পছন্দ করেন। সম্ভবত তাঁদের বেশিরভাগেরই শরীরে ভারতীয় ডিএনএ রয়েছে। আমার বেশিরভাগ মন্ত্রীই খুব সুন্দর ভারতীয় গান গাইতে পারেন।’
