India-Nepal border dispute: ভারতের সঙ্গে লিপুলেখ বিবাদ নিয়ে ব্রিটেনের শরণাপন্ন হয়েছিলেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। প্রতিবেশী দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপ দাবি করবেন তিনি। সেই ঘটনার কিছু দিনের মধ্যেই পাল্টি খেল নেপাল। খোদ প্রতিবেশী দেশের বিদেশ মন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, নেপাল সরকার ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনার মধ্যে দিয়ে সীমান্ত সংক্রান্ত বিবাদ মিটিয়ে নিতে চায়। সম্প্রতি ভারত জানিয়ে দিয়েছিল লিপুলেখ নিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।
বুধবার সে দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে নেপালের বিদেশ মন্ত্রী শিশির খানাল খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, নেপাল সরকার ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে নিতে চায়। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি এই সম্মানিত সংসদে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, নেপাল-ভারত সীমান্ত সমস্যাটি দুই দেশের মধ্যেকার বিষয় এবং নেপাল ঐতিহাসিক চুক্তি, সমঝোতা এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে দিয়ে সেটা মিটিয়ে নিতে চায়।’ এদিন নেপালের বিদেশ মন্ত্রী আরও বলেন, নেপাল-ভারত সীমান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি পুনরায় সেই সব এলাকায় কাজ শুরু করে দিয়েছে যেখানে বছরের পর বছর ধরে কাজ থমকে ছিল।
শিশির খানাল বলেন, ‘সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, তা মূলত ‘দশগজা’ অঞ্চলের জবরদখল এবং ‘সীমান্তবর্তী অবৈধ অনুপ্রবেশ বা দখলদারি’-র সঙ্গে সম্পর্কিত।’ তিনি আরও বলেন, দুই দেশের এই দীর্ঘ সীমান্তের সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক মানচিত্র তৈরি, সীমান্ত স্তম্ভ নির্মাণ ও সংস্কার এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার জবরদখল ও অনুপ্রবেশের তথ্য সংগ্রহের জন্য নেপাল ও ভারতের সীমান্ত-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি ও কারিগরি দলগুলো বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘নেপাল ও ভারতের মধ্যকার সুদীর্ঘ সীমানাকে যেখানে সুশৃঙ্খল ও বৈজ্ঞানিকভাবে মানচিত্রায়িত করা হয়েছে, সেই সমস্ত এলাকায় দুই দেশের সীমান্ত-সংক্রান্ত পরিকাঠামো এবং কারিগরি দলগুলো অত্যন্ত সক্রিয়। তারা সীমান্ত স্তম্ভ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ‘দশগজা’ অঞ্চল জবরদখল ও ‘সীমান্তবর্তী অবৈধ দখলদারি’র যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’ গত সপ্তাহেই ভারত সফরে এসেছিলেন নেপালের বিদেশ মন্ত্রী। আর দেশের মাটিতে পা রেখেই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আর তারপর দেশে ফিরে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন নেপালের বিদেশ মন্ত্রী।
কিছুদিন আগেই নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতের সঙ্গে নিপুলেখ নিয়ে বিবাদ সম্পর্কিত পুরনো নথিপত্রের বিষয়টি ব্রিটেনকে জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন, ভারত এবং নেপালের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের আলোচনায় ব্রিটেনকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর ভারতের তরফে খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘নেপাল তৃতীয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে! তবে ভারত কোনও তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না।’ নয়া দিল্লির কঠোর মনোভাবের পর এবার বক্তব্য বদল করল নেপাল।
