Indian High Commissioner on Canada। ৪০ বছর ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ফেল করেছে

Spread the love

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কানাডাকে তোপ দাগলেন সেই দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়েক। খলিস্তানি ইস্যুতে কানাডা সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ৪০ বছর ধরে সন্ত্রাসবাসের রোখার ক্ষেত্রে ফেল করেছে কানাডার সরকার। এরই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে খলিস্তানি জঙ্গি খুন করার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা নিয়েও পালটা তোপ দাগেন দীনেশ পট্টনায়েক।

খলিস্তানপন্থীরা কানাডাকে ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করে ভারতে সহিংসতার পরিকল্পনা করছে দীর্ঘদিন ধরে। কানাডার সেই গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৮০-র দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে কানাডায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধর্মীয় কট্টরপন্থা’ সংক্রান্ত হুমকি দেখা দিয়েছিল। গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও বলা হয়, খলিস্তানিরা কানাডার জাতীয় সুরক্ষার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই জাস্টিন ট্রুডো তাঁর দলকে ক্রমশ বামপন্থার দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। বিগত দিনগুলিতে তিনি আবার ভারতের সঙ্গে কানাডার দ্বন্দ্ব বাঁধিয়েছিলেন। খলিস্তান নিজ্জর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং কানাডার সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বিগত কয়েক মাসে। কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছিলেন, খলিস্তানি জঙ্গি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর খুনে নাকি ভারতীয় যোগ আছে।

এদিকে নিজ্জর খুনের ঘটনায় প্রমাণ দেখতে চেয়েছিল ভারত। তা দেখানো হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, নিজ্জর খুনের পরে এনআইএ-র তরফ থেকে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের কাছ থেকে খলিস্তানি জঙ্গির ডেথ সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছিল। কানাডা সেই ডেথ সার্টিফিকেট দেখায়নি। বরং তারা উলটে প্রশ্ন করেছে, এই ডেথ সার্টিফিকেট ভারতের কেন চাই। তারা কার্যত বুঝিয়ে দেয় যে নিজ্জর খুন সংক্রান্ত তথ্য তারা ভারতকে দিতে নারাজ। উল্লেখ্য, ভারতে নিজ্জরের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। এই আবহে আদালতের নথির রেকর্ডের খাতিরে সেই ডেথ সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের ১৮ জুন গুরুদ্বারের ভেতরেই গুলি করে হত্যা করা হয় খলিস্তানপন্থী জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরকে। হরদীপকে ২০ বারেরও বেশি গুলি করা হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের পঞ্জাবি অধ্যুষিত সারে অঞ্চলে থাকত হরদীপ। বিগত কয়েকবছরে কানাডার ভ্যানকুবারে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে খলিস্তানি বিক্ষোভের নেপথ্যে ছিল এই হরদীপ। কানাডায় মৃত হরদীপের বিরুদ্ধে এনআইএ-র চারটি মামলা ছিল। এক হিন্দু পুরোহিতকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র সহ খলিস্তানি যোগের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এই আবহে হরদীপ নিজ্জরের মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ধার্য করেছিল এনআইএ। জানা যায়, হরদীপ খলিস্তান টাইগার ফোর্সের প্রধান ছিল। গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের ‘শিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠনের মতাদর্শ প্রচারের দায়িত্ব ছিল হরদীপের টাইগার ফোর্সের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *