বন্দে ভারত এক্সপ্রেস থেকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন – একাধিক সেমি-হাইস্পিড এবং উচ্চগতির ট্রেন চালু করা হয়েছে দেশে। কিন্তু যে সর্বোচ্চ গতিতে সেইসব ট্রেন ছোটার অনুমতি আছে, তার থেকে গড় গতি অনেকটাই কম হয়। ফলে খাতায়কলমে সেমি-হাইস্পিড ট্রেন হলেও যাতায়াতের সময় খুব একটা কমে না। আর সেটার নেপথ্যে আছে লাইনের মান। যে লাইনে বন্দে ভারতের মতো ট্রেন চালানো হচ্ছে, সেটার অত গতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ভারতীয় রেলের তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন শাখার লাইনে দ্রুতগতিতে ট্রেন ছোটানোর জন্য কাজ করা হচ্ছে। ক্রমশ বাড়ছে হাইস্পিড লাইনের দৈর্ঘ্য। আর সেই লক্ষ্যে নিয়ে এগিয়ে চলার সময় নয়া একটি মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলল রেল। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত ভারতের ৮৪,২৪৪ কিলোমিটার রেললাইন আছে, যেখানে ঘণ্টায় ১১০ কিমি বা তার বেশি গতিতে ট্রেন ছুটতে পারে।
১২ বছরে কত বেড়েছে এরকম রেলপথের দৈর্ঘ্য?
দিনকয়েক আগেই ভারতীয় রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের মোট রেললাইনের ৮০ শতাংশের মতো অংশকে ১১০ কিমি বা তার বেশি গতিতে ছুটে যাওয়ার উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে। হিসাব করতে গেলে সেরকম লাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮৪,২৪৪ কিমি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেরকম লাইনের দৈর্ঘ্য ৩১,৪৪৫ কিমি ছিল বলে রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে।

ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিনের উপরে জোর রেলের
তারইমধ্যে আবার পরিবেশ দূষণ কমানোর জন্য ব্যাটারিচালিত এবং অন্যান্য বিকল্প শক্তিচালিত ইঞ্জিনের উপরে ফোকাস করছে রেল। আপাতত দেশের অধিকাংশ রেলপথেই বৈদ্যুতিকীকরণ হয়ে গিয়েছে। ফলে সেখানে মূলত বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের মাধ্যমে ট্রেন চালানো হয়। কিন্তু এখনও শান্টিং ও ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় এখন। যেমন নয়াদিল্লি-হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেস হাওড়ায় পৌঁছানোর পরে হাওড়া থেকে ওই ট্রেনকে রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিষ্কারের জন্য ইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যবহার করা হয় ডিজেল ইঞ্জিন।
কিন্তু সেরকম ক্ষেত্রেও ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার কমিয়ে ফেলতে চাইছে রেল। বিকল্প হিসেবে ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিনের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে সেরকম ইঞ্জিন তৈরি করা হচ্ছে লিথিয়াম ফেরো ফসফেট ব্যাটারি ব্যবহার করে। প্রাথমিকভাবে ডিজেল ইঞ্জিনকে ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিনে রূপান্তরিত করে ফেলা হয়েছে। তাছাড়াও বিকল্প শক্তি হিসেবে হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন নিয়েও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।