India’s economy: নতুন ভিত্তিবর্ষ ২০২২-২৩ ধরে এ বছর প্রথম পুরো অর্থবর্ষের আর্থিক বৃদ্ধির হার প্রকাশ করল কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান অনুসারে, সেই হিসাবে ২০২৫-২৬ সালে জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশ। পাশাপাশি, চতুর্থ ত্রৈমাসিকে তা ৭.৮ শতাংশ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
২০২৪-২৫ সালে আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.১ শতাংশ। আর গত অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ছিল ৭.৮ শতাংশ। এর আগে পরিসংখ্যান মন্ত্রকের অনুমান ছিল, নতুন ভিত্তিবর্ষের হিসাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৭.৬ শতাংশ। সেই হিসাবে এদিনের প্রকাশিত হার তার থেকে সামান্য বেশি। শুক্রবার জিডিপির হার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই নিয়ে বিবৃতি দেয় জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর। তারা জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবর্ষে চতুর্থ ত্রৈমাসিকে প্রকৃত ডিজিপি বা স্থির মূল্য জিডিপি ৮৭.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকের ৮১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা থেকে অনেকটাই বেশি। অন্যদিকে, এই ত্রৈমাসিকের জন্য নামমাত্র জিডিপি ৯৪.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে,, যা ৯.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করছে।
২০২৫-২৬ পূর্ণ অর্থবর্ষের জন্য দেশের প্রকৃত জিডিপি ৩২৩.১২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এটি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রথম সংশোধিত অনুমান ২৯৯.৮৯ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় ৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার নির্দেশ করে। অন্যদিকে, এই সময়ে নামমাত্র জিডিপি ৩৪৬.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (জিভিএ) ২০২৬ অর্থবর্ষে ৭.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যেখানে নামমাত্র জিভিএ ৯.১ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু চতুর্থ ত্রৈমাসিকের হিসেবে অনুযায়ী, প্রকৃত জিভিএ প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৯ শতাংশ, যেখানে নামমাত্র জিভিএ ৯.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সরকারি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে যে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি ) এবং তৃতীয় বা পরিষেবা খাত। ২০২৬ অর্থবর্ষে স্থির মূল্যে মাধ্যমিক খাতে ৮.৮ শতাংশ এবং তৃতীয় খাতে ৯.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মূলত কৃষি ও মৎস্য খাতের ওপর ভর করে প্রাথমিক খাতে ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

২০২৬ অর্থবর্ষে স্থির এবং চলতি-উভয় মূল্যেই উৎপাদন, বাণিজ্য, মেরামত, হোটেল, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সম্প্রচার ও সংরক্ষণ-সম্পর্কিত পরিষেবা খাতের পাশাপাশি আর্থিক, রিয়েল এস্টেট ও পেশাগত পরিষেবা খাতে দুই অঙ্কের জোরালো প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।