Manipur: মণিপুরের কাংপোকপি জেলার তুপুলের কাছে অবস্থিত লোইবোল খোলেন গ্রামে শুক্রবার ভোরে চলা সশস্ত্র হামলায় তিনজন কুকি গ্রামবাসী নিহত হলেন। সাতটি বাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় কুকি-জো জনগোষ্ঠীর শীর্ষ সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর (কেআইএম)।
শুক্রবার কেআইএম-এর জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, এদিন ভোর ৪টে নাগাদ এনএসসিএন-আইএম এবং তাদের ছায়া সংগঠন জেডইউএফ (কে)-এর একদল ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ক্যাডার হঠাৎ করে লোইবোল খোলেন গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। সংগঠনটির দাবি, সশস্ত্র হামলাকারীরা গ্রামে প্রবেশ করে গুলি চালায় এবং একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই হামলায় তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং সাতটি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়। নিহতরা হলেন- লেটখোংগাম হাওকিপ, তাঁর স্ত্রী টিনমেরি হাওকিপ এবং জাংমিনলাল হাওকিপ। কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (দক্ষিণ পশ্চিম সদর হিলস শাখা) জানায়, নিহতদের বয়স যথাক্রমে ৩৪, ৩০ ও ৩৪ বছর। তবে এই রক্তক্ষয়ী হামলা ও হতাহতের বিষয়ে মণিপুর পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার তীব্র নিন্দা
কুকি ইনপি মণিপুর এই ঘটনাকে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর ‘বর্বরোচিত হামলা’ বলে মন্তব্য করেছে। তারা জানিয়েছে, এভাবে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। হামলায় যারা ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি হারিয়েছেন, সেই বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। কুকি-জো সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলার ফলে তৈরি হওয়া যে কোনও ভয়াবহ পরিণতির জন্য তারা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে অবিলম্বে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার, দ্রুত ন্যায়বিচারের ও সংবেদনশীল গ্রামগুলিতে আরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানায়।
মণিপুরে সংঘাতের প্রেক্ষাপট
গত ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই সম্প্রদায়ের তপশিলি উপজাতি (এসটি) মর্যাদার দাবির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে মনিপুরে মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ভয়াবহ জাতিগত হিংসার সূত্রপাত হয়েছিল। সরকারি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সহিংসতার তীব্রতা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে, তবে কাংপোকপি, পূর্ব ইম্ফল এবং চুরাচাঁদপুরের মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে এখনও প্রায়শই এমন অতর্কিত বন্দুকবাজের হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এই হামলায় অভিযুক্ত নাগা বিদ্রোহী সংগঠন এনএসসিএন-আইএম কিংবা অন্য কোনওগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
