সেপ্টেম্বরে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ২৫,৫৯৭ কোটি টাকার অপরিশোধিত তেল কিনেছিল। এর ফলে চিনের পর রাশিয়ান তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। হেলসিঙ্কিভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, চিন এই সময়ের মধ্যে ৩.২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের অপরিশোধিত তেল কিনেছে। চিন রাশিয়ার জ্বালানির বৃহত্তম আমদানিকারক। এই তালিকায় চিন-ভারতের পরেই রয়েছে তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও দক্ষিণ কোরিয়া।
এদিকে ভারত সেপ্টেম্বরে রাশিয়া থেকে কয়লা, অপরিশোধিত তেল এবং শোধিত তেল মিলিয়ে ৩.৬ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের জ্বালানি আমদানি করেছিল। একই সময়ে, রাশিয়া থেকে চিনের মোট জ্বালানি আমদানির পরিমাণ ছিল ৫.৫ বিলিয়ন ইউরো। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল, এলএনজি ও কয়লার সবচেয়ে বড় ক্রেতা চিন। ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানি সেপ্টেম্বরে ৯% কমেছে। কমোডিটি ট্র্যাকার কোম্পানি কেপলারের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন মোট ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল (৩৪%) রাশিয়া থেকে এসেছিল।
এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনকারী সংস্থাগুলি জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাশিয়ান তেল ক্রয় ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমিয়েছে। কেপলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পতন কোনও মার্কিন শুল্ক বা ইউরোপীয় সমালোচনার ফলাফল নয়, বরং সম্পূর্ণরূপে বাজারের পরিস্থিতি দ্বারা চালিত। এই আবহে ইন্ডিয়ান অয়েলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিকের কথা মাথায় রেখে তেল কিনি। আমরা ইচ্ছে করে রাশিয়ার তেল কেনা কমাচ্ছি না বা বাড়াচ্ছি না। তেলের দাম, শোধনাগারের প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে তেল কিনি আমরা।’ উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আবহে ভারত সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কেনার দিকে ঝুঁকেছিল। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯ মাসে রাশিয়া থেকে তেল কিনে ১২.৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছিল ভারত।
