মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা (ইউএসজিএস) অনুসারে, শনিবার সকালে ইরানের বন্দর আব্বাসের পশ্চিমে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির উৎস ছিল বন্দর আব্বাস থেকে ৭৪ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই অঞ্চলটি হরমুজ প্রণালীর কাছেই অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে এই ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে দ্বিতীয় ভূমিকম্পে কেঁপেছে ইরান। এই আবহে মার্কিন বাহিনী ‘সিসমিক বম্ব’ ফেলেছে কিংবা পরমাণু কেন্দ্রে হামলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এদিকে প্রশ্ন উঠছে, পরমাণু বোমার পরীক্ষা শুরু করেছে ইরান? অবশ্য, এই অঞ্চলটি এমনিতেই ভূমিকম্প প্রবণ। তবে যুদ্ধের আবহে বারংবার ভূমিকম্প হওয়ায় চর্চা চলছেই।
এর আগে গত ৩ মার্চও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ইরানের ফারস প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত গেরাশে ভূমিকম্পটি ঘটেছিল। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। সেদিনই ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন। তার প্রত্যাঘাতে পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। পাল্টা যৌথ বাহনীর মিসাইলও আছড়ে পড়েছে ইরানের মাটিতে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা জোরদার হয়েছে।

এদিকে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এবং মিসাইল শহরে হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনী সিসমিক বম্ব ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা মাটির নীচে আঘাত হানতে সক্ষম। এই বোমার কারণে আশেপাশের এলাকায় ভূমিকম্প হয়, এই কারণেই এর নাম সিসমিক বম্ব। এদিকে সিসমিক বোমা ব্যবহারের কোনও প্রমাণ এখনও না পাওয়া গেলেও ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা এবং ইজরায়েল নাকি কার্পেট বম্বিং করছে। এই সবের মাঝে পরপর ভূমিকম্পে স্বভাবতই আতঙ্কিত ইরানের সাধারণ নাগরিকরা। এদিকে হরমুজ প্রণালী ‘বন্ধ’ করে দিয়ে ইরানি বিপ্লবী গার্ড কোর হামলা চালাচ্ছে একধিক ট্যাঙ্কারের ওপরে। এই পরিস্থিতিতে বন্দর আব্বাস এলাকায় এমনিতেই পরিস্থিতি বেশ জটিল।