মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এসেছে বেশ কিছু উপগ্রহ চিত্র। এই সব ছবি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানে হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত মার্কিন সামরিক বাহিনী। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের কাছাকাছি কাতার ও জর্ডানে ব্যাপকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে (যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি) ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্যাটেলাইট চিত্রগুলিতে দেখা গেছে যে জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে বিমান এবং সামরিক সরঞ্জামের সংখ্যা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রগুলিতে দেখা যায়, সেই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে আরসি-১৩৫ গুপ্তচর বিমান, ৩টি সি-১৩০ পরিবহণ বিমান, ১৮টি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার, ৭টি সি-১৭ পরিবহণ বিমান। রয়টার্সের মতে, ছবিতে এইচইএমটিটি যানবাহনে লাগানো ১০টি এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও দেখা গেছে।
এদিকে জর্ডানের মুহাফাক বিমান ঘাঁটিতেও ভারী সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে আমেরিকা। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানের মুহাফাক বিমান ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্রগুলিতে দেখা গিয়েছে, সেখানে আছে এফ১৫ই ফাইটার জেট, এ-১০ গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান, সি-১৭ এবং সি-১৩০ পরিবহণ বিমান এবং ইএ১৮জি গ্রোলার। জানুয়ারিতে মুহাফাক ঘাঁটিতে এই সব ছিল না। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ট্রাকে ক্ষেপণাস্ত্র রাখার অর্থ, হামলার পরে প্রতিআক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আগেভাগে তৈরি হয়ে আছে মার্কিন বাহিনী।
এর আগে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় প্যাট্রিয়ট সিস্টেম মোতায়েন করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। ২০১৯ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবে দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি এবং একটি টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সিস্টেম মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যদিও সৌদি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের আকাশসীমা বা মাটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে পারবে না আমেরিকা। তা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
