কথা ছিল শেখ হাসিনা পরবর্তী সময়ে ‘স্বচ্ছ’ ভোট করানো হবে। ভোট প্রচারে নেমে আবার জামাতে ইসলামি নেতারা দাবি করেছিলেন, দাঁড়িপাল্লায় (জামাতের নির্বাচনী প্রতীক) ভোট দিলে নাকি জন্নত বা স্বর্গে যাবেন ভোটাররা। এই আবহে ‘জন্নতের টিকিট বিক্রি’ করতে গিয়ে ‘যাত্রীদেরই’ টাকা দিলেন জামাত নেতা। অর্থাৎ, ভোট কেনার জন্যে টাকা বিলিয়ে ধরা পড়লেন জামাত নেতা। ঘটনাটি ঘটে মোংলায়, ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে। তবে অভিযুক্ত জামাত নেতাকে গ্রেফতার করা হয়নি। শুধুমাত্র জরিমানা করেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই আবহে কীভাবে বাংলাদেশে স্বচ্ছ ভোট হবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, মোংলার ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামাত সভাপতি মহম্মদ জসিম উদ্দিন টাকা বিলিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ৭-৮ জন জামাত কর্মীরাও ছিল। স্থানীয়রাই এই সব জামাত নেতাকর্মীদের তাড়া করে। পরে তাদের ধরে যৌথবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপরে জসিম উদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে এই জামাত নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে ভোটকেন্দ্রের কাছেই একটি শিবির করে সেখান থেকে ভোটার স্লিপ দিচ্ছিল জামাতে ইসলামি। তবে জসিম উদ্দিন টাকা বিলিয়ে ভোট কেনার সময় ধরা পড়ায় সেই শিবির সরানো হয়। জামাত নেতাকে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জসিমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এদিকে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশের সদস্যরা টহল দিয়ে চলেছেন।

এদিকে জামাতের শরিক দল এনসিপির নেতা তথা প্রাক্তন সরকারি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আবার দাবি করেন, টাকা উদ্ধার করার নামে নাকি অনেকের ‘ব্যক্তি স্বাধীনতায়’ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একাধিক জায়গায় জামাতের নেতারা টাকা নিয়ে ধরা পড়েছেন। অভিযোগ, ভোট কেনার চেষ্টা করছিল এই সব নেতারা। আবার কোথাও কোথাও ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টাও করে জামাতের কর্মীরা।