হরমুজ প্রণালীর কাছে টানা কয়েক দিনের সামরিক উত্তেজনার পর আপাতত সংঘাত থেকে সরে আসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, উভয় দেশই আপাতত সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবার কাতারের দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার বৈঠক হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
আমেরিকার এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, উভয় পক্ষই ‘কাইনেটিক অ্যাক্টিভিটি’ বা সরাসরি সামরিক অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিএনএনকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, সাময়িকভাবে দুই পক্ষই সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সম্ভাব্য সমঝোতার খবর এমন সময় সামনে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইরানও সতর্ক করে জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু হয় মাত্র ১১ দিন আগে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধের জেরে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী ৬০ দিনের আলোচনার সময় দুই দেশ সংঘাত এড়িয়ে চলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের দায়িত্ব ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ শিথিল করতে সম্মত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মধ্যে একটি সরাসরি ‘হটলাইন’ চালুর বিষয়েও নীতিগত সমঝোতা হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও সেই হটলাইন চালু না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। একই সময়ে ইরান আবারও প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নতুন সমন্বয় প্রক্রিয়ার দাবি তোলে। অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ওমান উপকূলের কাছাকাছি দুটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। গত ৭২ ঘণ্টায় মার্কিন সহায়তায় ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করেছে। যদিও এই সংখ্যা ঐতিহাসিক গড় দৈনিক ১৩৮টি জাহাজের তুলনায় কম।