Iranian mines in Strait of Hormuz: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে ‘হরমুজ প্রণালী’ সবসময়ই একটি কৌশলগত তুরুপের তাস। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি ইরান মাঝেমধ্যেই দিয়ে থাকে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে ওই রুট নিয়ে উত্তাপের পারদ ক্রমশ চড়ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালীতে ‘শত্রু’ দেশের গতিবিধি রুখতে যে মাইন পুঁতেছিল ইরান, সেগুলিই নাকি খুঁজে পাচ্ছে না তেহরান। তার ফলে পুরোদমে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারছে না বলে মার্কিন আধিকারিকদের সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও ইরানের কৌশল
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আবহে সামরিক দিক থেকে ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছিল যে, তারা চাইলে যে কোনও মুহূর্তে এই পথটি অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। এই ব্লকেড বা অবরোধ তৈরির প্রধান হাতিয়ার ছিল ‘সি মাইন’ বা সমুদ্রতলে রাখা মাইন। কিন্তু ইরান যে মাইনগুলো এই পথে পেতেছিল, সেগুলোর সঠিক অবস্থান তারা এখন আর শনাক্ত করতে পারছে না বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

কেন মাইন শনাক্ত করতে পারছে না ইরান?
প্রাকৃতিক স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশ: রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান যেভাবে মাইনগুলো পুঁতেছিল,সেগুলি সেখানথেকে বিচ্যুত হয়ে অন্যদিকে সরে গিয়েছে। মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে উল্টো-পাল্টা ভাবে মাইন বসিয়েছিল ইরান। এখন সেগুলি খুঁজে বের করতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে।‘অদৃশ্য ঘাতক’ হয়ে উঠেছে
আর সেই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলি এই খবরের পর সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই সমস্যার কারণে এখন জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সমুদ্রের নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই মাইনগুলো এখন ‘অদৃশ্য ঘাতক’-এর মতো কাজ করছে, যা যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের যুদ্ধ কিংবা জ্বালানি তেলের বাজারে ধস নামিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট মহল।