Jahangir Khan Protection Plea: আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ নেতা জাহাঙ্গির খান। আবেদনকারী জাহাঙ্গির খানের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মিথ্যা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাই তিনি সুরক্ষার জন্য আদালতে এসেছেন। অ্যাডভোকেট কিশোর দত্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান।
জাহাঙ্গির খানের শিবিরের দাবি, নির্বাচনের মুখে তাঁকে প্রচার থেকে দূরে রাখতেই এই আইনি জটিলতায় জড়ানো হচ্ছে। আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন কোনো সুরক্ষা দেয় নাকি তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়, এখন সেটাই দেখার। সূত্রে খবর, তৃণমূল প্রার্থী তাঁর আবেদনে অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিক মিথ্যে মামলা ও এফআইআর রুজু করেছে। ভোটের ঠিক আগে তাঁকে চক্রান্ত করে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাই রাজ্য পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ঠিক কতগুলি মামলা দায়ের করেছে, আদালতের কাছে সেই তথ্য তলবের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনের আগে থেকেই ফলত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। এসআইআর-এর সময় থেকেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল। অভিযোগ ছিল, বিএলও-র ওপর চাপ তৈরি করে মৃতদের নাম এসআইআর-এর তালিকায় তোলানোর চেষ্টা চলছে। সেক্ষেত্রে এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের নাম উঠে আসে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খান বেশ পরিচিত ও দাপুটে নাম। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই এলাকায় পরিচিত। এসআইআর পরবর্তী পর্যায়ে নির্বাচনের প্রাক লগ্নে এই এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে। সেক্ষেত্রে অভিযোগের তির জাহাঙ্গিরের দিকেই থাকে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ আইপিএস অজয় পাল শর্মা। যাঁর কড়া পুলিশি ভাবমূর্তির জন্য তাঁকে ‘সিংহম’ বলা হয়। সেই পুলিশকর্তার সঙ্গেও প্রচ্ছন্ন স্নায়ুযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন জাহাঙ্গির। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেছিলেন, ‘উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা… ঝুঁকেগা নহি।’ ভোটের দিন ফলতায় একাধিক বুথে ইভিএম-এ সেলোটেপ লাগানোর অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। ২১ মে ফলতায় নির্বাচন, ২৪ মে ফল ঘোষণা।
