Jashpal Rana: ভারতীয় শুটিংয়ের এক যুগের অবসান। অকালেই প্রয়াত হলেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী কিংবদন্তি শুটার এবং দেশের অন্যতম সফল কোচ যশপাল রানা। শুক্রবার ৪৯ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। দেশকে সোনা এনে দিলেও জীবন মৃত্যুর লড়াইতে হার মানতে হল তাঁকে।
ভারতের পিস্তল শ্যুটারদের ‘হাই-পারফরম্যান্স কোচ’ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত যশপাল রানা মিউনিখে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ (আইএসএসএফ) বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার পথে বুকে ব্যাথা ও অস্বস্তি বোধ করেছিলেন। নয়া দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা তাঁর হৃদযন্ত্রের ধমনীতে একটি প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে সেখানে একটি স্টেন্ট বসান। আগামী দিনগুলোতে আরেকটি স্টেন্ট বসানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিক খবরে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ও তিনি সেরে উঠছেন বলে জানা গেলেও, শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ও ইলেক্ট্রোফিজিওলজি বিভাগের প্রধান ডঃ বলবীর সিং জানিয়েছেন, বুকে ব্যথা অনুভব করা সত্ত্বেও ভ্রমণ বা জার্নি জারি রাখার কারণে রানা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে এসে পৌঁছেছিলেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে ডঃ বলবীর সিং বলেন, ‘তিনি তিন দিন আগে হওয়া একটি তীব্র হার্ট অ্যাটাক নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ভ্রমণ করছিলেন এবং হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত তার বুকে ব্যথা হচ্ছিল। হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ধমনীটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দেখা যায় যে, তাঁর হৃদযন্ত্রের পাম্প করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তিনি হার্ট ফেইলিউরে ভুগছিলেন।’ ১৯৯৪ সালে মিলানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জুনিয়র বিভাগে যশপাল রানা বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। একই বছর হিরোশিমা এশিয়ান গেমসেও সোনা পান। তাঁর সবচেয়ে দাপুটে পারফরম্যান্স আসে ২০০২ সালের ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমসে, যেখানে তিনি চারটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ জেতেন। চার বছর পর ২০০৬ দোহা এশিয়ান গেমসে ৩০ বছর বয়সে তিনটি সোনা ও একটি রুপো জেতেন। ২০১২ সালে তিনি জুনিয়র জাতীয় পিস্তল কোচ হিসেবে কোচিং শুরু করেন। সেই পদক্ষেপ ভারতীয় শুটিংকে বদলে দেয়। তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছেন সৌরভ চৌধুরী, যিনি ১৬ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতেন এবং যুব অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হন।

কিংবদন্তি শুটারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৷ এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শ্রী যশপাল রানা জি-র মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত । তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় ক্রীড়াজগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি ৷’ তিনি আরও লেখেন, ‘শুটিংয়ে অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমে দেশের জন্য অপরিসীম গৌরব বয়ে এনেছেন রানা এবং একইভাবে একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল প্রশংসনীয় ৷ তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তরুণ ক্রীড়াবিদদের গড়ে তুলেছেন ও পথ দেখিয়েছেন ।’ তাঁর কথায়, ‘শ্রেষ্ঠত্ব, শৃঙ্খলা এবং ক্রীড়া জগতের প্রতি তাঁর অবিচল নিষ্ঠা তাঁকে অপরিসীম প্রশংসা এনে দিয়েছে । এই শোকের মুহূর্তে আমার সমবেদনা তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং সমগ্র ক্রীড়া জগতের প্রতি রইল । ওম শান্তি ৷’