কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হলেন তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধি। বৈঠকে যোগ দেন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা। এছাড়াও উপস্থিত আছেন মেদিনীপুরের তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া এবং খড়্গপুর গ্রামীণ কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায়। এর মধ্যে জুন মালিয়া গতকাল দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকে ছিলেন। কয়েকদিন আগে থেকেই জুন মালিয়ার সুর বদলাতে শুরু করেছিল। এর আগে এই জুন মালিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নয়নের মণি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে ভোটের পরে তাঁর গলায় শোনা যায় ‘শুভেন্দু স্তুতি’। এই আবহে প্রশাসনিক বৈঠকে যে তাঁকে ডাকা হবে তা স্বাভাবিক।
বিরোধী দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তৃণমূলের অন্দরে মতবিরোধের জল্পনার আবহে এই উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ দেবেও ছিলেন। গতকাল তিনিও দিল্লিতে বিদ্রোহীদের বৈঠকে ছিলেন। শুভেন্দু তাঁর গাল টিপে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছিল রিপোর্টে। এদিকে বৈঠক শেষে তিনি ফের শুটিংয়ে ফেরেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে পোস্ট করে লেখেন, ‘যেখানে থাকার কথা, সেখানে ফিরে এসেছি।’ এই আবহে শুভেন্দুর সভায় দেবের উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। কারণ গতকালও দেব বৈঠকের সময় এমন ভাবে এককোণায় বসে ছিলেন যাতে তাঁর কোনও ছবি সামনে না আসে। তবে আজ প্রশাসনিক বৈঠকে সর্বসমক্ষে তিনি ছিলেন।

যদিও বৈঠকে যোগদানের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতেই তাঁরা বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কোলাঘাটের এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল বাড়লেও তা এখন আর অবাক করে দেওয়ার মতো ঘটনা নয়।